উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ধুনট উপজেলায় ১ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৫১ হেক্টর। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার ৩৫ হেক্টর জমিতে বেশি সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর থেকে রবি মৌসুম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় ৩৩৮ হেক্টরের বেশি জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা।
উপজেলার ক্ষুদ্রপীরহাটি গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, মৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কিছুটা লাভের আশা করা যায়। কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগাম সবজি বাজারজাত করতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এ ধরনের চাষে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ ও পোকামাকড় দমনে বাড়তি খরচ করতে হয়। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে।
একই উপজেলার কৃষক রিপন মিয়া এবার ১৮ শতক জমিতে করলা চাষ করেছেন। তিনি জানান, সার ও বীজ কিনতে ইতোমধ্যে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সুতা, বাঁশসহ অন্যান্য উপকরণে ব্যয় হয়েছে আরও ৯ হাজার টাকা। সবজি বাজারজাত করা পর্যন্ত মোট খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে এ জমি থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
ধুনট উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নুরুন নাহার বলেন, বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় কৃষকেরা আগাম সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে তাঁরা আধুনিক ও সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে ভালো ফলন পেতে পারেন।
কৃষকদের আশা, অনুকূল আবহাওয়া, যথাযথ পরিচর্যা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ তাঁদের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকলে লাভের পরিবর্তে লোকসানের ঝুঁকিও থেকে যাবে।
The post ধুনটে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক, ভালো ফলনের প্রত্যাশা appeared first on ভোরের চেতনা.
