ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সামরিক সহায়তা দিয়েও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সুফল পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইউক্রেনকে সহায়তা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বেড়েছে, অথচ বিনিময়ে দেশটিকে দুর্ভোগ, প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আবারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কির উচিত রাশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা। তাঁর মতে, এ ধরনের সমঝোতায় যাওয়ার সুযোগ আগেও ছিল এবং এখনো রয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট চাইলে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের অবসানের পথ খুঁজে বের করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল। মঙ্গলবারের বক্তব্যে সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, দুই বছর আগেও সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ ছিল। তাঁর ধারণা, ইউক্রেনের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুদ্ধের দুর্ভোগ সহ্য করে যেতে চাইবে না।
ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁর দেশ কিয়েভকে বিপুল পরিমাণ সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তি বলতে কিছুই নেই বলে তিনি মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, এই সহায়তার সঙ্গে আর্থিক ব্যয়ের পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপও যুক্ত হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধের কারণে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, মার্কিন করদাতারা এ ধরনের ব্যয় নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই এখন যুদ্ধের অবসানে সমঝোতায় পৌঁছানোর সময় এসেছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়েও দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা গেছে। রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।
চলমান যুদ্ধের জন্য জেলেনস্কির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইউক্রেনের সামনে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুদ্ধের ব্যয় ও মার্কিন জনগণের স্বার্থের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার বিনিময়ে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি—এ বিষয়ে তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ন। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান, আলোচনার অগ্রগতি এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর সদিচ্ছার ওপর।
