মানিলন্ডারিং আইনের মামলার পর এবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আ. জব্বার হত্যাচেষ্টার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই রিমান্ড শেষে আজ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া এই মামলায় দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে বনানী থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
হত্যাচেষ্টা মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। তিনি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি অন্যান্য আসামিদের সাথে মামলার ঘটনাস্থলে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার, তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুলসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করে বলেন,‘আসামি শারীরিকভাবে অসুস্থ, হার্টের সমস্যা রয়েছে। তাকে পূজামণ্ডপ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্মীয় বিষয় ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমরা তার জামিন প্রার্থনা করছি।’
তারা আরও বলেন, ‘এ ঘটনার সময় আসামি বিদেশে অবস্থা করেছিলেন। পূর্বের বেশ কয়েকটি মামলায় জামিন পেয়ে পলাতক হননি। দেশেই অবস্থান করছিলেন। আসামিকে হয়রানি করার জন্য এই মামলায় দেওয়া হয়েছে।’
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় , জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আ. জব্বার বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ ১০০/১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
স্বর্ণ ও হিরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তখনকার র্যাব। সেদিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায় র্যাব। পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। নেওয়া হয় রিমান্ডেও। এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।
