বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি ভর্তুকি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন নাট্যাঙ্গনের শতাধিক নাট্যকর্মী। আজ রোববার এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।
এতে বলা হয়, আগে এ মিলনায়তনে এক শিফটে নাটক মঞ্চায়নের জন্য ভাড়া দিতে হতো ৫ হাজার টাকা। গত জানুয়ারি থেকে সেই ভাড়া বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভাড়া বেড়েছে। এতে আর্থিক চাপে পড়েছেন নাট্যদলগুলো। কমেছে মিলনায়তনটিতে নাটক মঞ্চায়নের আগ্রহও।
বিবৃতিদাতারা জানান, ২০১৭ সালের জুনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া শুরু হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বশেষ ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মিলনায়তনটিতে নাটক মঞ্চায়নের জন্য ১১ মাসে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রণোদনা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। প্রতি মাসে ২০টি প্রদর্শনীর জন্য প্রতিটির বিপরীতে ৬ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে এ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ১৯৭৩ সালে মহিলা সমিতির মঞ্চ থেকেই বাংলাদেশে টিকিট কেটে নাটক দেখার সংস্কৃতির সূচনা হয়। ২০০৫ সালের ২৬ আগস্ট তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এ সড়কের নাম রাখেন নাটক সরণি। স্বাধীন বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় মহিলা সমিতির এ মঞ্চের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে মিলনায়তন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অনেক নাট্যদলের পক্ষে টিকিট বিক্রির অর্থ দিয়ে প্রদর্শনীর খরচ তুলে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাট্যচর্চার এ গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে নিয়মিত নাটক মঞ্চায়ন অব্যাহত রাখতে সরকারি উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন বিবৃতিদাতারা। তারা বলেন, দেশের নাট্যচর্চায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এমনিতেই সীমিত। সেই সামান্য সহায়তাও বন্ধ হয়ে যাওয়া হতাশাজনক।
বিবৃতিতে মহিলা সমিতির মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য ১১ মাসে চাওয়া ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার প্রণোদনা অবিলম্বে পুনর্বহাল এবং নাট্যচর্চার সামগ্রিক প্রণোদনার পরিমাণ বাড়িয়ে নিয়মিত বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন নাট্যনির্দেশক ও শিক্ষক সৈয়দ জামিল আহমেদ, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, নাট্যকার ও নির্দেশক মাসুম রেজা, নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ এবং নির্দেশক ও অভিনয়শিল্পী মোহাম্মদ আলী হায়দারসহ আরো অনেকে।
