খাবারের জগতে ট্রেন্ড বদলায় দ্রুত, আর সেই বদলের বড় চালিকাশক্তি এখন সোশ্যাল মিডিয়া। সেই ট্রেন্ডের ঢেউয়েই হঠাৎ করে জনপ্রিয়তা ‘উবে ড্রিঙ্ক’। উজ্জ্বল বেগুনি রঙের এই পানীয় শুধু স্বাদেই নয়, দেখতেও এতটাই আকর্ষণীয় যে মুহূর্তে নজর কাড়ে। ইনস্টাগ্রাম বা রিলসে একবার চোখে পড়লেই কৌতূহল জাগে।
উবে আসলে এক ধরনের বেগুনি ইয়াম বা মিষ্টি আলুর মতো সব্জি। যার উৎপত্তি ফিলিপিন্সে। স্থানীয় ভাষায় একে উবে বলা হয়। বহু বছর ধরে ফিলিপিনো রান্নায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশেষ করে ডেসার্ট তৈরিতে এর ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়। উবের স্বাদ হালকা মিষ্টি। কেউ কেউ এতে ভ্যানিলা বা নারকেলের আভাসও খুঁজে পান। এই অনন্য স্বাদের জন্যই এটি সহজে বিভিন্ন খাবার ও পানীয়ের সঙ্গে মানিয়ে যায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে উবে ড্রিঙ্ক কেন এত আলোচনায়? এর প্রথম কারণ নিঃসন্দেহে এর রং। উজ্জ্বল বেগুনি শেড একে অন্য যেকোনও পানীয় থেকে আলাদা করে দেয়। ডিজিট্যাল যুগে ইনস্টাগ্রামেবল হওয়াটাই বড় কথা। আর সেই জায়গায় উবে একেবারে পারফেক্ট। ক্যাফেতে সাজানো উবে লাতে বা উবে মিল্কশেকের ছবি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। ফলে জেন জ়ি-রা খুব দ্রুত এই ট্রেন্ডকে গ্রহণ করেছে।
দ্বিতীয়ত, স্বাদের দিক থেকেও উবে আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। এটি খুব বেশি মিষ্টি নয়, আবার একটা ব্যালান্সড, ক্রিমি টেক্সচার দেয়। ফলে যাঁরা কফির তিক্ততা বা চায়ের কড়া স্বাদ পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য উবে ড্রিঙ্ক একটি বিকল্প হয়ে উঠছে। দুধের সঙ্গে মিশে এটি এমন পানীয় তৈরি করে যা দিনের যে কোনও সময় উপভোগ করা যায়। এই কারণেই অনেকেই উবেকে ‘মাচার সাবস্টিটিউট’ বলছেন। গত কয়েক বছরে মাচা লাতে যেমন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়েছিল, এখন ঠিক সেই জায়গায় ঢুকে পড়ছে উবে। তবে দু’টির মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে। ম্যাচায় ক্যাফেইন থাকে এবং স্বাদে খানিক তিক্ততা থাকে, যা সবার পছন্দ নয়। অন্যদিকে, উবে সম্পূর্ণ ক্যাফেইন-মুক্ত এবং স্বাদে অনেক বেশি সুস্বাদু। ফলে যাঁরা ক্যাফেইন এড়িয়ে চলতে চান বা নতুন স্বাদের খোঁজে আছেন, তাঁদের কাছে উবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বিশ্বজুড়ে ক্যাফে সংস্কৃতিতেও এই পরিবর্তন স্পষ্ট। আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া—প্রায় সব জায়গাতেই এখন ক্যাফের মেনুতে উবে লাতে, উবে বোবা টি, উবে ফ্রাপে জায়গা করে নিচ্ছে। বড় বড় কফি চেনও এই ট্রেন্ড ধরতে শুরু করেছে। শুধু পানীয় নয়, উবে দিয়ে প্যানকেক, ক্রোয়াসাঁ, এমনকি পেস্ট্রিও তৈরি হচ্ছে। ভারতেও এই প্রবণতা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে।
কলকাতা, মুম্বই, দিল্লির মতো শহরের প্রিমিয়াম ক্যাফেগুলিতে ইতিমধ্যেই উবে ড্রিঙ্ক দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, যাঁরা নিয়মিত ক্যাফে সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা এই নতুন স্বাদ ট্রাই করতে আগ্রহী। ফুড ব্লগার ও ইনফ্লুয়েন্সারদের হাত ধরে এই ট্রেন্ড আরও দ্রুত ছড়াচ্ছে।
তবে শুধু ট্রেন্ড বললে ভুল হবে। উবে ড্রিঙ্ক আসলে গ্লোবাল ফুড কালচারের এক নতুন দিকও তুলে ধরছে। আগে যেখানে স্থানীয় উপাদান নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, এখন তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। ফিলিপিন্সের ঐতিহ্যবাহী একটি উপাদান আজ আন্তর্জাতিক ক্যাফে মেনুর অংশ।
তাই উবে ড্রিঙ্ক এখন শুধু পানীয় নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতা। আগামী দিনে এটি মাচার জায়গা পুরোপুরি নেবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে এতটুকু নিশ্চিত, পার্পল এই পানীয় এখন ফুড ট্রেন্ডের দুনিয়ায় নিজের জায়গা পাকাপাকি করে নিয়েছে।
