সৌদি আরবের দুর্ঘটনায় কটিয়াদী প্রবাসী দুই জনের মৃত্যু
মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের বেতাল গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোঃ কামরুল ইসলাম (২৬) এবং কটিয়াদী পৌরসভার নামা বোয়ালিয়ার মোহাম্মদ চাঁন মিয়ার ছেলে, মোহাম্মদ ফয়সাল মিয়া (৩৬) দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। উভেয়ই সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
মোঃ কামরুল ইসলাম ১২ই অক্টোবর সকালে রিয়াদের বান বানএলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় চার বছর আগে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য, নিহত ফয়সাল সৌদি আরবের রিয়াদের বান বান এলাকায় আল মদিনা কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায় ১২ই অক্টোবর সোমবার নাইট ডিউটি শেষে সকালে নিজ রুমে ফেরার পথে, পানিবাহি ট্যাংকারের সাথে তার লরিটি মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটলে লড়িটিতে অবস্থানরত কামরুল ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহত সৌদি প্রবাসী কামরুলের বন্ধু বিল্লাল মিয়া মোবাইলের মাধ্যমে কামরুলের বাড়িতে খবর জানালে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে শোকে ভেঙ্গে পড়েন বাবা জয়নাল আবেদীন।
কামরুলের স্ত্রী খাদিজা আক্তার আখি বলেন আল্লাহ আমাকে কি কঠিন পরীক্ষায় ফেললেন। ২০২৫ সালে তিন মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসে তিনি আমাকে বিয়ে করেছিলেন। আজ সকালে স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনতে হলো। আমি আমার স্বামীর মুখখানা শেষবারের মতো দেখতে চাই এবং তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থার জন্য বর্তমান সরকারের নিকট দাবি জানাই।
অপরদিকে সৌদি আরবের পাঁচতালা ভবনের ছাদ থেকে নির্মাণ সামগ্রী মাথার উপর পড়ে গুরুতর আহত হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশী ফয়সাল মিয়া(৩৬) মারা যান। ১০ই অক্টোবর রাতে মক্কা নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ফয়সাল মিয়া কটিয়াদী পৌরসভার নামা বোয়ালিয়া মহল্লার মোঃ চান মিয়ার ছেলে। তিনি সৌদি আরবের মক্কা নগরীর আল ইয়ামামা কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায় ৬ই অক্টোবর রাতে দায়িত্ব পালনকালে পাঁঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ব্লক, ফয়সালের মাথার উপর পড়লে, তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ই অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়।
ফয়সালের বড় ভাই মোঃ সজল মিয়া জানান দুর্ঘটনার পর পর তার ভাইকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই কোম্পানিতে কর্মরত তার রুমমেট জাকির হুসেন মোবাইল এর মাধ্যমে বাড়িতে ফয়সালের মৃত্যুর খবর জানান।
ফয়সালের স্ত্রী কোহিনুর বেগম জানান, আমার স্বামী ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। আমাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। এখন সন্তানদের নিয়ে আমি কিভাবে চলব তা বুঝতে পারছি না। স্বামীর মুক্তি শেষবারের মতো দেখার জন্য তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার জন্য তিনি বর্তমান সরকারের নিকট দাবী জানান।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, আমরা উভয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদে অবগত আছি। আমরা যত দ্রুত সম্ভব সরকারিভাবে উভয়ের মরদেহ সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করছি।
এই বিভাগের আরো খবর






