মায়ের মৃত্যুর পর একাকীত্ব গ্রাস করেছিল ৪৯ বছর বয়সি রাজমিস্ত্রি এদিমার মার্তিন্সকে। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে দেখতে তিনি ইনস্টাগ্রামে খুঁজে পান ‘জেসিকা’ নামের এক রূপসী নারী খামারির আইডি। খামারবাড়ির সুন্দর সব ভিডিও আর মিষ্টি মুখের প্রতিশ্রুতিতে মন গলে যায় তার। জেসিকা নাকি তাকে নিজের খামারে লালন-পালন করবেন, থাকার জায়গা দেবেন আর দুজনে মিলে এক নতুন সংসার বাঁধবেন—এমন কথায় চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেন মার্তিন্স।
ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও রাজ্যের বাসিন্দা মার্তিন্স। ভালোবাসার টানে আর সুন্দর এক ভবিষ্যতের আশায় নিজের জমানো সব সম্পদ বিক্রি করে দেন তিনি। হাতে জমানো টাকা নিয়ে গত ৯ অক্টোবর ১,৯০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ বাস যাত্রায় বের হন। টানা একদিনের জার্নি শেষে যখন ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তে শহরে পৌঁছান, তখন তার চোখে-মুখে শুধুই জেসিকাকে পাওয়ার আনন্দ।
কিন্তু স্বপ্ন ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। প্রেমিকার ছবি হাতে নিয়ে পুরো শহর ঘুরে মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করতে থাকেন মার্তিন্স, কিন্তু কেউ চিনতে পারল না সেই নারীকে। অবশেষে দিশেহারা হয়ে সাহায্য চান স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে। আর সেখানেই ধরা পড়ে আসল সত্য। রেডিও স্টেশনের লোকজন তাকে জানান, এই নারী বাস্তবে নেই! এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ দিয়ে বানানো একটি কাল্পনিক চেহারা মাত্র।
এমন ভয়াবহ প্রতারণার কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে মার্তিন্সের। ভালোবাসা তো মেলেইনি, উল্টো সর্বস্ব হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব ও চরম হতাশাগ্রস্ত। পরে অবশ্য পৌরসভার সহায়তায় তিনি খাবার ও বাড়ি ফেরার বাস টিকিট পান।
সবচেয়ে তাজ্জব বিষয় হলো, গত ছয় মাসের মধ্যে কেবল মার্তিন্স একা নন—একই এআই প্রেমিকার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে এই শহরে ছুটে এসেছেন আরও দুজন পুরুষ!
সূত্র: এনডিটিভি