সংবাদ · সাধারণ
নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযান: ৮৭ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
১১/১০/২০২৬

গ্যাস সিলিন্ডার ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অনিয়ম প্রতিরোধে দেশব্যাপী তদারকি ও অভিযান জোরদার করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।রবিবার ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৩১টি জেলায় একযোগে পরিচালিত বিশাল অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৮৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট সাত লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় অধিদপ্তরের ৪৬টি তদারকি দল পাইকারি ও খুচরা বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বিশেষ করে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ও ভোজ্যতেলের স্বাভাবিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিশ্চিত করা, সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।অভিযান পরিচালনাকালে তদারকি দলগুলো প্রতিটি বাজারে পণ্যের হালনাগাদ মূল্যতালিকা ঝুলানো রয়েছে কি না, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে কি না, ওজন ও পরিমাপে কোনো কারচুপি রয়েছে কি না তা নিবিড়ভাবে যাচাই করে। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি বন্ধ এবং বাজারে নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়।অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “দৃশ্যমান স্থানে সঠিক মূল্যতালিকা প্রদর্শন, নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি এবং কেনাবেচার ক্রয়-বিক্রয়ের সঠিক রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে।” পাশাপাশি অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সাধারণ ভোক্তাদের কাছ থেকে অন্যায্য অতিরিক্ত মূল্য আদায় থেকে বিরত থাকতে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।বাজার তদারকির এই কার্যক্রমের পাশাপাশি ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সচেতনতামূলক লিফলেট ও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। এই অভিযান সফল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সরাসরি সহযোগিতা করেন।সাধারণ ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক আহ্বান জানিয়ে অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, “প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কিনে বাজারে স্বাভাবিক চাহিদা ও সরবরাহ বজায় রাখতে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।”এছাড়াও যেকোনো পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, পণ্যের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ভালোভাবে যাচাই করা এবং কেনাকাটার পর পাকা রসিদ সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ভোক্তা সাধারণকে আশ্বস্ত করে সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পণ্য কেনায় অতিরিক্ত মূল্য আদায়, প্রতারণা কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ও ভোক্তাস্বার্থ সুরক্ষায় দেশব্যাপী এই নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗