সাবেক এমপি আবুল কালাম হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ। ছবি: সংগৃহীত
-->রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল কালাম আজাদকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার শুনানির জন্য আবুল কালাম আজাদকে রাজশাহী জেলা কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তে এ ঘটনায় তার জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহনেওয়াজ।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেন আলেক খান। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসা শেষে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন তিনি।
আরও পড়ুন
এর আগে, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাগমারায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় করা পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় পর্যায়ক্রমে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। সর্বশেষ রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানার একটি মামলায় তিনি রাজশাহী কারাগারে আটক ছিলেন।
আরও পড়ুন
আবুল কালাম আজাদ বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জলিল উজ্জ্বল/সালমান/
আরও পড়ুন
মৌলভীবাজারে চা-বিক্রেতা হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৭
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->মৌলভীবাজারে পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুরুদ মিয়া নামে এক চা-বিক্রেতাকে হত্যার দায়ে প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এ রায় ঘোষণা করেন।
খালাস পাওয়া সাতজন হলেন- তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়া।
আরও পড়ুন
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের নারাইনপাশা এলাকার চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়া ছাদিক মিয়ার কাছে তার পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাদিক মিয়া সেখান থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর দলবল নিয়ে ফিরে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুরুদ মিয়াকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দুরুদ মিয়াকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন
এ ঘটনায় ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে আদালতে মামলাজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হচ্ছে। দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ায় সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। ভবিষ্যতেও বিচার বিভাগের এ গতিশীলতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. আব্দুল মতিন চৌধুরীও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ দণ্ডের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ল।
পুলক পুরকায়স্থ/সালমান/
আরও পড়ুন
লক্ষ্মীপুরে ৭ পুলিশের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানায় কর্মরত সাতজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে করা মামলায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নির্দোষ প্রমাণ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছেন বাদী রিনা আক্তার। দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১১ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি রায়পুর আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
আরও পড়ুন
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিনা আক্তারের স্বামী আবদুর রহিম রনিকে আটকের পর মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি।
আরও পড়ুন
মামলাটির তদন্ত প্রথমে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি) দেওয়া হয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজি দিলে পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও নারাজি দেন বাদী। এরপর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব দেন।
গত ২ জুলাই সিআইডি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধেও গত ১৭ আগস্ট নারাজি আবেদন করেন বাদীপক্ষ। রবিবার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত না করে তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ। রায়পুর থানা ও হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজের হার্ডডিস্ক জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি। এ ছাড়া বাদীপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি যথাযথভাবে আমলে না নিয়ে নিজেদের মতো করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আইনজীবী আরও বলেন, তদন্তে এসব ত্রুটি থাকায় বাদীপক্ষ সিআইডির প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায়পুর-চাঁদপুর সড়কের চরপাতা ইউনিয়নের বর্ডার বাজার এলাকা থেকে আবদুর রহিম রনিকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার কাছে গরু বিক্রির ৯০ হাজার টাকা ছিল। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ওই টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী। পরে থানায় নিয়ে রনিকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, স্বামীর সন্ধান পেতে রিনা আক্তার বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ করেন। পরে রায়পুর থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) কাছে স্বামীর বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে ছাড়িয়ে নিতে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারলে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে ঘটনার পর রায়পুর থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ১৮ ডিসেম্বর ডাকাতির প্রস্তুতিকালে রনিসহ দুজনকে অস্ত্র, কার্তুজ, দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু হানিফ (১), মো. আবু হানিফ (৩), মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সফিক মিয়া ও সাখাওয়াত হোসেন এবং কনস্টেবল আতিক উল্যা ও ইউসুফ ঢালি।
রফিকুল ইসলাম/রিফাত/
আরও পড়ুন
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াসসহ ৪ জন রিমান্ডে
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি মেখে দেওয়ার ঘটনায় সংলাপ ফোরামের সভাপতি আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ (এ এন এম আয়াস) গ্রেপ্তার চারজনকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়া অন্যরা হলেন- মো. সাকিবুল হাসান, মো. সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমি।
আরও পড়ুন
এদের মধ্যে আয়াশ ও সাকিবুল হাসানের তিন দিন এবং মারজিয়া ও সুজন মিয়াকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, ধর্মীয় সম্প্রীতিতে আঘাতের চেষ্টা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
আরও পড়ুন
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল আসামিদের ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ঘটনার ইন্ধনদাতা ও মদদদাতাদের সনাক্তকরণসহ গ্রেপ্তার, ঘটনার পরিকল্পনাকারীদের সম্পর্কে তথ্য উদঘাটন ও ঘটনা সংঘটনে অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে এবং জড়িত পলাতকদের সনাক্তকরণসহ তাদের গ্রেপ্তার করতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
আসামিদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাদের চিকিৎসা প্রদান সংক্রান্ত কাগজপত্রও আদালতে দাখিল করা হয়।
আদালতে শুনানির আগে হাজতখানা থেকে কড়া নিরাপত্তায় দুই পুলিশের কাঁধে ভর দিয়ে অসুস্থ আয়াশকে এজলাসে নিতে দেখা গেছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করে ফুটপাতের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়। ফুটপাতে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন, পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ নির্মাণ এবং সীমানাপ্রাচীর সংস্কার করে পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
গত ৯ অক্টোবর আয়াশ সীমানা প্রাচীরের অংকিত গ্রাফিতি চুনকালি দিয়ে মুছে ফেলার ঘোষণা দেয়। শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির গেটের বিপরীত পাশে গণপূর্তর বাউন্ডারির সামনে গ্রেপ্তাররাসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা একত্রিত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেয়।
আয়াস পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলকের প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেয় এবং রিমি ভারতীয় আগ্রাসন ও রবীন্দ্রনাথের জমিদারি নিয়ে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেওয়ার পরে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালো কালি মেখে দেয়। এ ছাড়াও আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আসামিরা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টির চেষ্টা করে। ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়।
পরে দণ্ডবিধি-র ১২০(বি), ১৫৩(এ), ২৯৫ (এ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করার অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে কর্মসূচি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ ও নিজে হামলার শিকার হওয়াসহ নানাবিধ কারণে আলোচনায় আসে আ ন ম আয়াস।
জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/
আরও পড়ুন
রাজবাড়ীতে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন, সন্তানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় মো. ফারুক হোসেন (৪০) নামের ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের বয়স ২১ বছর পর্যন্ত ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে রায় দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন পাংশা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খার ছেলে। তবে আসামি জামিনে বের হবার পর থেকে পলাতক।
আরও পড়ুন
আদালতের রায় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছা. রেখা খাতুন একজন তালাকপ্রাপ্ত নারী। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় ফারুক হোসেন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ২০১৮ সালের ৩০ মে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে খোকসা রেলস্টেশনসংলগ্ন নিজের এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যান ফারুক। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে প্রায় দুই মাস ওই বাসায় এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকায় একটি বাসায় রেখে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন ফারুক।
একপর্যায়ে রেখা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিয়ের কাগজপত্র চাইলে ফারুক বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন
২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন রেখা। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে এটি পাংশা থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্তে রেখা খাতুনের গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি মেডিকেল পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়। পরে তিনি একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। তদন্ত শেষে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আরও পড়ুন
রায়ে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, অর্থদণ্ডের টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভুক্তভোগী নারীকে দেওয়া হবে। দণ্ডিত ব্যক্তির বর্তমান সম্পদ থেকে তা আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে আদায় করা যাবে।
এ ছাড়া রায়ে রাফিউল হোসেনকে ফারুক হোসেনের জৈবিক সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাবার কাছ থেকে প্রাপ্য সব আইনি অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পরে সরকার দণ্ডিত ব্যক্তির কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে। সন্তানের ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজবাড়ীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রায়ে আরও বলা হয়, আসামি গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণ করলে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা কার্যকর করা হবে।
মামলার আইনজীবী জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, আসামি ফারুক হোসেনকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ওই নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ে বাদী পক্ষ সন্তুষ্ট।
সুমন বিশ্বাস/খাদিজা রুমি/
