ওয়াশিংটন, ২৫ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে আবারও ঘনিয়ে এসেছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে, যা স্থানীয় সময় অনুযায়ী রোববারই (আজ) শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় কয়েক দিন ধরেই ইরানের ওপর বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছিল, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি বক্তব্যে সেই শঙ্কা এখন রূপ নিয়েছে বাস্তব চরম উত্তেজনায়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ পরিষ্কার করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা হামলার বিষয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবছি, সম্ভবত আজ রোববারই তা হতে পারে।” তবে একই সাথে সামরিক সংঘাত এড়ানোর জন্য তেহরানের সামনে একটি খোলা পথও রেখেছেন তিনি। ট্রাম্পের সাফ কথা—ইরান যদি ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তাবলী মেনে নিয়ে একটি ‘বড় চুক্তি’ করতে রাজি হয়, তবে তারা এ সম্ভাব্য সামরিক বিপর্যয় থেকে রেহাই পেতে পারে।
চুক্তি বনাম সামরিক চাপ: ট্রাম্পের অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নীতিতে সবসময়ই ‘কঠোর সামরিক চাপ ও চুক্তির আহ্বান’ পাশাপাশি অবস্থান করে। সাম্প্রতিক মন্তব্যেও তার সেই প্রতিধ্বনি ফুটে উঠেছে:
ইরানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয়: ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চুক্তির বার্তা দেওয়া হলেও তেহরানের সদিচ্ছা নিয়ে ট্রাম্পের মনে স্পষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “ইরানিরা হয়তো একটি চুক্তি চায়। কিন্তু আসল সমস্যা হলো—তারা কি সেই চুক্তি মেনে চলার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে পারবে?”
পারমাণবিক লক্ষ্য ও বি-২ বোমারু হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, সেসময় যদি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া না হতো এবং পরবর্তীতে পুনরায় হামলার হুমকি বজায় রাখা না হতো, তবে ইরান ইতিমধ্যেই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করে ফেলত।
হরমুজ প্রণালী ও তেলের সরবরাহ: তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হরমুজ প্রণালী নিয়েও মুখ খুলেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন যে, সংঘাত ও বাধা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুদ্ধপূর্ব সময়ের মতোই স্বাভাবিক গতিতে জ্বালানি তেল পরিবহন চলছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবির সপক্ষে সরাসরি কোনো বৈশ্বিক প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের চোখ: জয় সুনিশ্চিত করার মার্কিন কৌশল
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে চূড়ান্ত কোণঠাসা করার কৌশল বেছে নিয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান যদি আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর শর্তযুক্ত চুক্তিতে না আসে, তবে মার্কিন বাহিনী সামরিক উপায়ে তাদের সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য করবে।
“আমাক কাজটি সম্পন্ন করতেই হতে পারে, অথবা তারা চুক্তির টেবিলে আসবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—সামরিক হামলা চালিয়ে হোক কিংবা চুক্তির মাধ্যমেই হোক, দিনশেষে জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে।”— ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট
আজ রোববার শুরু হতে যাওয়া এই সম্ভাব্য হামলা বিশ্বরাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। সবাই এখন মুখিয়ে আছে তেহরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে—ইরান কি মার্কিন শর্ত মেনে চুক্তির টেবিলে বসবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হতে যাচ্ছে আরেক প্রাণঘাতী সামরিক সংঘাত?
এনএন/ ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::ইরানে আবারও মার্কিন হামলার শঙ্কা: বড় চুক্তির বিকল্প বার্তা ট্রাম্পের first appeared on DesheBideshe.