রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে অনুপ্রবেশ করে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত সোমবার শুনানি শেষে আসামির ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক তারেকুর রহমান এতথ্য নিশ্চিত করেন।
নথি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১ অক্টোবর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ৭ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর গত ১২ অক্টোবর বয়স্ক ও অসুস্থ বিবেচনায় তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বর নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড'-এর প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী জনতাবদ্ধ হয়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। এসময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
আরও বলা হয়, হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে বাদী প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং এক কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ওই সময়ে আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের 'ব্রাউন ফিস' নামের স্টুডিওতে অনাধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
