ভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা থামবে কবে?
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
ছুটির মৌসুমে দূরপাল্লার বাস ভাড়া বৃদ্ধি যেন এক করুণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। ঈদ, পূজা কিংবা সরকারি ছুটি কাটাতে মানুষ যখন প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করে তখন পরিবহন খাতের ভাড়া অতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি করা হয়। যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দূরপাল্লার বাসে নির্ধারিত মূল্য ছাড়িয়ে এ অতিরিক্ত অর্থ আদায় যেন এক স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনলাইন টিকিট বন্ধ করে টার্মিনালগুলোতে ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। ফলে অনেকেই বাড়তি মূল্যে টিকিট কিনতে বাধ্য হয়। সড়ক পরিবহন খাতে ভাড়া নির্ধারণের জন্য সরকারি নীতিমালা থাকা আবশ্যক। কিছু কিছু জায়গায় থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। রাজধানীর বৃহৎ বাস টার্মিনাল গাবতলী। অথচ এই অঞ্চলে পরিবহনকর্মীরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়িয়ে দিনের পর দিন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের ভূমিকা নেই বললেই চলে। অন্যদিকে পরিবহন মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য খরচের বিষয়টি সামনে আনে। এসব ব্যয়ের অজুহাতে দ্বিগুণ এমনকি তিন গুণ পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিকতা কতটুকু? ভাড়া বৃদ্ধির প্রয়োজন হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। তাই এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমেই প্রয়োজন প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি। বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে টার্মিনালগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও ভাড়ার তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গকারী পরিবহন ও ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল বন্ধ করতে হবে। সর্বোপরি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারিই পারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে।
রাখি আক্তার
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা
rakhiaktermim85@gmail.com
আরও পড়ুন
আচরণ সংকট
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
মানুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ হলো আচরণ। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করলে তা সংকটাপন্ন হয়। বর্তমান সমাজের অধিকাংশ মানুষ সেই সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। পারস্পরিক যোগাযোগের অভাব, অসহযোগিতা, দাম্ভিকতা, পরমতসহিষ্ণুতার অভাব, হিংসা, ক্রোধ, মিথ্যাচার প্রভৃতি কারণে মানুষের আচরণ ক্রমেই নেতিবাচক হয়ে পড়ছে, যা ব্যক্তি থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর প্রভাব ফেলছে। মানুষের মাঝে বাড়ছে একাকীত্ব ও আত্মহত্যার প্রবণতা। মানসিক অশান্তির কারণে মানুষের কর্মস্পৃহাও কমে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহের মূলেও রয়েছে আচরণসংকট। পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের আচরণ বিকশিত হয়। দুঃখের বিষয় হলো, প্রচলিত শিক্ষার মাধ্যমে আমরা সুষ্ঠুভাবে আমাদের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে পারি না। সুন্দর আচরণের জন্য মানুষের মূল্যবোধ তাড়িত হওয়া জরুরি। আশা করছি, পরিবর্তিত ব্যবস্থায় সুশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে মূল্যবোধে তাড়িত হয়ে আমরা আচরণসংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।
মো. জাহিদ হাসান
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
jahidhasan9x9@gmail.com
আরও পড়ুন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচার নয় চাই এলাকাভিত্তিক ফলাফলের হিসাব
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচার, মশা নিধন কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললেও এলাকাভিত্তিক ফলাফলের হিসাব নেই বললেই চলে। কোন ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব কতটা কমেছে, কোথায় লার্ভা বেশি পাওয়া যাচ্ছে, কোন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কী সুফল মিলেছে এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি। শুধু প্রচার, ওষুধ ছিটানো আর অভিযান পরিচালনার বিবরণ দিয়ে সাফল্য প্রমাণ করা যায় না; প্রয়োজন পরিমাপযোগ্য ফলাফল। প্রতিটি ওয়ার্ডের ঝুঁকির মাত্রা, অভিযানসংখ্যা, লার্ভা শনাক্তের হার ও ডেঙ্গু রোগীর তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যর্থতা চিহ্নিত করে সংশোধনী পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা দরকার। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকের সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকারিতাও যাচাইযোগ্য হতে হবে। প্রচারের হিসাব নয়, চাই এলাকাভিত্তিক ফলাফলের স্বচ্ছ প্রতিবেদন।
মুহিবুল হাসান রাফি
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ
mohibulhasanrafi809067@gmail.com
আরও পড়ুন
খবরের কাগজের সাফল্য কামনা করি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ‘দৈনিক খবরের কাগজ’ পত্রিকার তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
শুরুতেই পত্রিকাটির সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। ‘খবরের কাগজ’ পত্রিকার সঙ্গে আমার পরিচয় একজন লেখক হিসেবে। আমি এ যাবৎ বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় লেখালেখি করে আসছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, খবরের কাগজ পত্রিকাটির সম্পাদনা যথেষ্ট মানসম্মত। নতুন লেখকদের সুযোগ প্রদান ও সম্ভাবনা তৈরির ক্ষেত্রে পত্রিকাটি সোচ্চার থাকে।
পত্রিকাটি গণমানুষের কথা তুলে ধরে এবং অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রচার করে থাকে। আশা করছি, দেশের উন্নয়নে এবং জনগণের কল্যাণে পত্রিকাটি নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাবে এবং মুক্তচিন্তা, জ্ঞান ও বুদ্ধির বিকাশে পত্রিকাটি একটি উৎকৃষ্ট মাধ্যম হয়ে উঠবে। জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুষম যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারলে পত্রিকাটি বর্তমান সময়ের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।
সাহিত্য পাতায় মানসম্মত লেখাকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন; সে ক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে লেখা বাছাই করা জরুরি। দক্ষ ও যোগ্য সংবাদকর্মী নিয়োগ দিতে হবে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে সম্ভাবনাময় আলোচনা নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা প্রয়োজন। দেশ ও জাতির কল্যাণে পত্রিকাটি আরও বিকশিত হোক–উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
মো. জাহিদ হাসান
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
jahidhasan9x9@gmail.com
আরও পড়ুন
চতুর্থ বর্ষে খবরের কাগজ, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অঙ্গীকার
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
সময় কত দ্রুত বয়ে যায়! দেখতে দেখতে তিনটি বছর পেরিয়ে চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করেছে জাতীয় দৈনিক খবরের কাগজ। ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার পত্রিকাটির এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আনন্দ, গর্ব ও নতুন প্রত্যাশার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান, জনমানুষের কথা তুলে ধরা এবং সমাজের নানা অসংগতি প্রকাশের মধ্যদিয়ে পত্রিকাটি এগিয়ে চলেছে নিজস্ব অঙ্গীকার নিয়ে।
একটি সংবাদপত্র কেবল সংবাদ প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের দর্পণ, মানুষের কণ্ঠস্বর এবং জনস্বার্থ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। দৈনিক খবরের কাগজ দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক নানা বিষয়ে সংবাদ ও মতামত প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
গ্রামীণ জনপদের সমস্যা, প্রান্তিক মানুষের প্রত্যাশা, কৃষকের সংগ্রাম, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, নারীর অগ্রযাত্রা এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ যথাযথভাবে তুলে ধরা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অন্যতম কাজ। চতুর্থ বর্ষে পদার্পণের এই শুভক্ষণে দৈনিক খবরের কাগজের কাছে প্রত্যাশা–অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের অধিকার, সমাজের সমস্যা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনাগুলো গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনে স্বাধীনতা, সাহস, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত সততা আরও সুদৃঢ় হবে। তিন বছরের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে চতুর্থ বর্ষ হোক আরও দায়িত্বশীল, সাহসী ও জনমুখী সাংবাদিকতার নতুন অধ্যায়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক, সাংবাদিক, সহকর্মী, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রাবন্ধিক, দৈনিক খবরের কাগজ
drmazed96@gmail.com
