Published on
:
2 min read
সমীর মণ্ডল, গড়বেতা
এই পরিবারেও মা লক্ষ্মীর সঙ্গে পুজো করা হয় গণেশ ও সরস্বতীকে। লক্ষ্মীপুজোর পরের দিনই চলে পাত পেড়ে খাওয়া–দাওয়া। প্রায় তিন হাজার নরনারায়ণের সেবা চলে। গড়বেতার রাধানগরে চন্দ্র পরিবারের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো এ বার ১১৬ বছরে পড়ল।
পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, প্রায় ১১৬ বছর আগে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন উপেন্দ্রচন্দ্র চন্দ্র। তাঁর মৃত্যুর পরে পুজোর দায়িত্ব সামলান হরিপদ চন্দ্র। পরবর্তী সময়ে হরিপদের হাত থেকে পুজোর দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর ছেলেদের উপরে। চার ভাই দিলীপ, দীপক, অশোক ও তাপস চন্দ্রের উদ্যোগে বংশপরম্পরায় এগিয়ে চলেছে এই আরাধনা। দিলীপ চন্দ্র মারা গিয়েছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দীপক, অশোক ও তাপস চন্দ্রের পরিবারের সদস্যরাও একসঙ্গে পুজোর আয়োজন করেন।
শুরুতে শুধুমাত্র দেবী লক্ষ্মীর পুজো হলেও পরে তার সঙ্গে যুক্ত হন সরস্বতী ও গণেশ। বর্তমানে তিন দেবদেবীর একসঙ্গে আরাধনা করা হয়। পুজোর যাবতীয় আয়োজনের দায়িত্ব পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের হাতে সামলান। নারকেল নাড়ু তৈরি থেকে শুরু করে নৈবেদ্য প্রস্তুত—সবেতেই থাকে পরিবারের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। একসময়ে এই পুজোকে ঘিরে রাধানগর মোড় এলাকায় বসত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আসর। যাত্রাপালা, বাউল গান, ঢাকের লড়াই এবং বাঁশি বাজানোর প্রতিযোগিতায় জমে উঠত উৎসব। শুধু এ রাজ্য নয়, ভিন্রাজ্য থেকেও প্রতিযোগীরা অংশ নিতে আসতেন। পরিবারের সদস্যদের কথায়, ‘অসম থেকে বাঁশি বাজানোর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসে পুরস্কার জিতেছিলেন প্রতিযোগী। তবে করোনার পর থেকে সেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আগের মতো জাঁকজমকও আর নেই।’
পরিবারের সদস্য তাপস চন্দ্র বলেন, ‘সমস্ত নিয়মকানুন ও আচার মেনে এখনও পুজো হয়।’ স্থানীয় মানুষের কাছে এই পুজোর পরিচিতি এতটাই যে, তাঁরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে শামিল হন আয়োজনে। পরিবারের পুজো ধীরে ধীরে এলাকার মানুষের উৎসবে পরিণত হয়েছে। পারিবারিক বন্ধন এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগসূত্র আজও অটুট গড়বেতার চন্দ্র পরিবারের লক্ষ্মীপুজো।
