সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় এখনো নতুন কোনো তথ্য জানায়নি দেশটির সরকার। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সৌদি আরবের কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। তাঁদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
এর আগে সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। গত ১৮ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ শাখা থেকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোপনীয় চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।
কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে এ বিষয়ে অবহিত করেনি। এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি বলে চিঠিতে দাবি করা হয়।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৪ অক্টোবরের একটি বিবৃতির তথ্য থেকে দেশটিতে প্রকাশিত সংবাদে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি প্রথম জানা যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে তাঁরা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছিলেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ কনস্যুলেটকে সরবরাহ করেনি বলে চিঠিতে জানানো হয়।
কনস্যুলেটের চিঠি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য জানতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তালিকা চেয়েছিল বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা পাওয়া যায়। সেখানে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল। তবে তাঁদের শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে তালিকায় কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা সৌদি আরবের আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তালিকায় নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক দেখানো হয়। পরদিন সুইটি আক্তারকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল বলে উল্লেখ ছিল। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দার নারী কারাগারে ছিলেন।
কনস্যুলেটের চিঠিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির সম্পর্কে তাদের কাছে তথ্য ছিল না।
চিঠিতে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে নৈতিকতাসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষিত হয়েছে। এসব সাজা এক মাসের কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ায় তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া ও সাজার বিষয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশি দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে অবহিত না করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় সৌদি আরবে আটক বাংলাদেশিদের আইনি অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ, তাঁদের অধিকার রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
-20261023043446.jpg&w=1440&q=75)