কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজ প্রণালিতে নৌমাইনের আঘাতে দুটি বৃহদাকার তেলবাহী সুপার ট্যাংকারে মারাত্মক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি ট্যাংকারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত খনিজ তেল পরিবাহিত হচ্ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইডেন্টিফিকেশন বা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও রাডার বন্ধ রেখে অনুমোদিত পথ এড়িয়ে চলার সময় একটি ট্যাংকার নৌমাইনের সংস্পর্শে এলে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর অপর একটি বহরে থাকা দ্বিতীয় ট্যাংকারটিতেও একইভাবে আগুন ধরে যায়। আইআরজিসির দাবি, একটি ট্যাংকার সামরিক সহায়তায় আন্তর্জাতিক জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করছিল এবং পরবর্তীতে তা চলাচলের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি হরমোজ প্রণালির সার্বিক নৌচলাচল তদারকি ও অনুমোদন ব্যবস্থা জোরদার করেছে তেহরান। সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছিল, নেভিগেশন ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে যাতায়াতকারী যেকোনো আন্তর্জাতিক জাহাজকে নিরাপত্তা ঝুঁকির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক সংস্থা ভ্যানগার্ড এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক নৌ-নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও (UKMTO)-এর তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এই আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আক্রমণের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই সপ্তাহে হরমোজ প্রণালি ও সংলগ্ন জলসীমায় একের পর এক হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।
জ্বালানি তথ্য বিশ্লেষণকারী বৈশ্বিক সংস্থা কেপলারের সাময়িক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রুটটিতে সৃষ্টি হওয়া জটিলতায় হরমোজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহনের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ হঠাৎ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে খনিজ তেলের দাম এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট শীর্ষ শক্তিগুলো জানিয়েছে, উত্তেজনার মাত্রা বাড়লেও কোনো চরম বা অপ্রচলিত সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা নেই। উদ্ভূত সংঘাতময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কূটনৈতিক আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার পথেই সংকট সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।
