সাজেকে ইউপিডিএফের তাণ্ডব, পর্যটকদের মানবঢাল বানিয়ে গুলি, সেনাবাহিনীর সাহসী পদক্ষেপে অক্ষত ৩ হাজার পর্যটক উদ্ধার : আইএসপিআর
অনলাইন ডেক্স
- আপডেট সময় : ০২:৪৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ভোরের কন্ঠ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
পার্বত্য চট্টগ্রামের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র রাঙামাটির সাজেকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সশস্ত্র সদস্যদের তাণ্ডব, সড়ক অবরোধ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সাধারণ জনগণকে জোরপূর্বক ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে উদ্ধার করে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলার আওতাধীন সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় এ নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও সংবাদ সূত্রে জানা যায়, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে সাজেক ভ্রমণে আসা প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। খবর পেয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে।
সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়ি বহর নিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে গঙ্গারাম বাজারে অবরোধকারীরা পুনরায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল পরিস্থিতি শান্ত করতে ও পর্যটকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে।
কিন্তু আলোচনা চলাকালেই সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে ইউপিডিএফের প্ররোচনায় উসকানিমূলকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নেয়।
এর কিছুক্ষণ পরই সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পাহাড়ের আড়াল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরপরাধ পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এ সময় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও সেনাবাহিনীর টহল দল অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের সুরক্ষায় পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। সেনাবাহিনীর কঠোর প্রতিরোধের মুখে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে সেনাবহরের কড়া নিরাপত্তায় সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ইউপিডিএফের এই সহিংসতা ও অবরোধ ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়া ইউপিডিএফের সশস্ত্র একটি অংশ মূলত পর্যটন এলাকাকে কেন্দ্র করে অপতৎপরতা শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মিছিল-অবরোধে নামানো এবং তাদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সাজেকে নিরপরাধ পর্যটকদের জীবনের ঝুঁকিতে ফেলা এবং স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক সহিংসতায় নামানোর এ ঘটনাকে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের গভীর ষড়যোত্র বলে মনে করা হচ্ছে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকা এবং দেশের উদীয়মান পর্যটনশিল্পের ওপর বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। সাধারণ জনগণ ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জানমালের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্বত্য অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করা হবে এবং এ ধরণের শান্তিবিনাশী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সেনাটহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
