Published on
:
3 min read
এই সময়, জয়পুর: বাঙালির সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো হলেও হাওড়ার জয়পুর থানার খালনার ক্ষেত্রে অন্তত সেই কথাটা খাটে না। খালনার লক্ষ্মীপুজোর জাঁকজমক দুর্গাপুজোর থেকে কোনও অংশেই কম নয়। দুর্গাপুজোর মতোই খালনার লক্ষ্মীপুজোয় থিমের মণ্ডপ হয়। তার সঙ্গে থাকে চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা। কোথাও আবার লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে মেলা বসে। অন্যান্য জায়গার মানুষ দুর্গাপুজোর সময় নতুন জামাকাপড় কিনলেও খালনার লোকজন নতুন পোশাক কেনেন লক্ষ্মীপুজোর আগে। লক্ষ্মীপুজোর দিন খালনায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে।
দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের পরে চারিদিকে যখন বিষাদের সুর, খালনার বিভিন্ন গ্রামে তখন লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ পুজো মণ্ডপের কাজ প্রায় শেষের পথে। বিগত বছরগুলির মতো এ বারও দর্শকদের চমক দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন পুজো উদ্যোক্তারা। পশ্চিম খালনা রাজবংশী পাড়া কালীমাতা তরুণ সঙ্ঘের লক্ষ্মীপুজো এ বার ৭২ বছরে পড়ল। এ বছর তাঁদের থিম, নট্ট কোম্পানি। মণ্ডপের ভিতরেই তৈরি হচ্ছে যাত্রার আসর। এক সময়ে গ্রামের দিকে হ্যাজাক লাইট জ্বেলে যাত্রা হতো। সেই পরিবেশকে সুন্দরভাবে মণ্ডপের মধ্যে তুলে আনা হচ্ছে। থাকছে যাত্রার কলাকুশলীদের ব্যবহৃত টিনের বাক্স-সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র।
যাত্রাশিল্পীরা যে সব সাজ পোশাক ব্যবহার করতেও সেগুলোও মণ্ডপে স্থান পেয়েছে। মূল মণ্ডপের দিকে যাওয়ার সময় দেখা মিলবে ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র 'সমাচার দর্পণ'-এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত যাত্রার খবর। এই পুজোর অন্যতম কর্মকর্তা সুনীল বর বলেন, 'আগেকার দিনে যাত্রা শুরুর আগে যে মিউজিক বাজতো, সেটাই আমাদের পুজো মণ্ডপে শোনানো হবে। সব মিলিয়ে একটা নস্টালজিক পরিবেশ তৈরি হবে।'
নিজস্ব ছবি এই সময়
খালনা খুদিরায়তলার কোহিনুর ক্লাবের পুজো ১৬০ বছরে পড়েছে। তাঁদের থিম 'শিবলিঙ্গ'। মণ্ডপের সামনে একটি কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। সেখানে শিবের দর্শন মিলবে। প্রায় ৫০ ফুট উঁচু এই মণ্ডপের সামনেই দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ দেখতে পাবেন দর্শকরা। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক দীপক পাল ও জয়ন্ত দাস জানান, প্রথা অনুযায়ী লক্ষ্মীপুজোর আগে তাঁদের মণ্ডপে ব্রহ্মাপুজো অনুষ্ঠিত হবে। খালনা কৃষ্ণরায়তলার পুজো ১২৬ বছরে পড়ল। পদ্মফুলের আদলে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। মূলত পাটকাঠি এবং খড়িকাঠি দিয়ে পদ্মফুল তৈরি করা হয়েছে। খালনা মিতালি সঙ্ঘের পুজো এ বার ৪৩ বছরে পড়ল। তাঁদের থিম রামমন্দির। প্রতিমা সাবেকি। প্রতিমা নির্মাণ করছেন পল্টু রীত। পুজো উপলক্ষে দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
খালনা চারুময়ী লক্ষ্মী মন্দিরের পুজো ১৫৩ বছরে পড়ল। এখানে স্থায়ী মন্দিরে পুজো হয়। প্রতিমাটি সোনা ও রুপোর অলঙ্কারে মোড়া। পুজো শুরু হওয়ার আগের দিন দুপুরে দেবীকে সোনা ও রুপোর গহনা পরান ক্লাবের কর্মকর্তারা। ক্লাবের কর্মকর্তা অমিত দাস বলেন, 'নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুজো শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে দেবীকে গহনা পরানো হয়।
লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন অর্থাৎ শনিবার খালনা হাইস্কুল মাঠে ড্রোনের মাধ্যমে লাইটিং শো এবং বর্নাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত বলেন, 'খালনার লক্ষ্মীপুজোর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে আমরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।' প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, খালনার লক্ষ্মীপুজোর ভিড় সামলাতে পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের সুপার অমিত ভার্মা জানিয়েছেন, খালনার লক্ষ্মীপুজোয় দর্শনার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
