লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের লাঠিসোঁটা হাতে ধাওয়া করে ফিরিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। শনিবার বিকেলে সংঘটিত এ ঘটনায় সীমান্তে সাময়িকভাবে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বিএসএফের কয়েকজন সদস্য কোনো ধরনের পূর্বানুমতি বা কারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অমান্য করে শূন্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের প্রায় ১০০ গজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা সীমান্তবর্তী মাঠে কৃষিকাজে নিয়োজিত সাধারণ কৃষকদের বিনা উসকানিতে মারধর করার চেষ্টা চালান। বিএসএফের এমন আকস্মিক ও উসকানিমূলক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় কৃষকরা। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের কৃষকরা একত্রিত হয়ে হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফ সদস্যদের শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং তাদের চারদিক থেকে ধাওয়া করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামবাসীর সম্মিলিত ধাওয়ার মুখে টিকতে না পেরে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন এবং দৌড়ে নিজেদের সীমান্ত সীমানায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। নিজেদের ভূখণ্ডে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে বিএসএফ সদস্যরা ওপার থেকে বাংলাদেশি কৃষকদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড বা বোমা নিক্ষেপ করেন। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ অনভিপ্রেত ঘটনার পর পুরো সীমান্ত এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তবাসীর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁরাও এ ধরনের একটি ঘটনার কথা শুনেছেন এবং এর কিছু ভিডিও ফুটেজ তাঁদের হাতে এসেছে। তবে এটি সম্পূর্ণ সীমান্ত এলাকা ও বিজিবির এখতিয়ারভুক্ত বিষয় হওয়ায়, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য বা তথ্য না দেওয়া পর্যন্ত পুলিশের পক্ষে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
