ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। পরিস্থিতির কারণে মালয়েশিয়ার বিমান সংস্থা ফায়ারফ্লাই কুয়ালালামপুর-সিঙ্গাপুর রুটে বুধবার পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল করেছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর।
ফায়ারফ্লাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধোঁয়াশা ও আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে কুয়ালালামপুরের কাছের সুলতান আবদুল আজিজ শাহ বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের বায়ুমান সূচক ছিল ১৯৯ এবং কুয়ালালামপুরের ১৮৩। সূচকের মান ১৫০ ছাড়ালে বায়ু সাধারণত অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। ৩০০-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া দাবানল থেকে এই ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দেশটিতে গত ১১ বছরের মধ্যে এবার দাবানল সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এল নিনো নামের আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি আগুনের বিস্তার বাড়িয়ে দিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, গত চার দশকের মধ্যে এবার এল নিনোর প্রভাব অন্যতম শক্তিশালী হতে পারে।
মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফায়ারফ্লাই। এই গ্রুপের অধীনেই রয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস। ধোঁয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় গত ১০ অক্টোবর প্রথম ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয় সংস্থাটি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের মধ্যে চলাচলকারী মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে তা আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করবে।
ধোঁয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় সিঙ্গাপুর সরকারও ব্যবস্থা নিয়েছে। ধোঁয়াজনিত অসুস্থতার চিকিৎসায় ভর্তুকি সুবিধা আবার চালু করেছে দেশটি। ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়া কয়েক সপ্তাহ ধরে অঞ্চলটিকে আচ্ছন্ন করে রাখার সময়ও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
মালয়েশিয়ায় মঙ্গলবার অধিকাংশ রাজ্যে স্কুল খুলেছে। বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি রাজ্য, একটি ফেডারেল অঞ্চল এবং কয়েকটি জেলার স্কুল এখনো বন্ধ রয়েছে।
দাবানলের ধোঁয়া মোকাবিলায় আঞ্চলিক উদ্যোগ জোরদার করতে চায় মালয়েশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান সোমবার জানান, আগামী মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বিষয়টি তুলবেন তিনি।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার তথ্য অনুযায়ী, সেপাংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহামাদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আসিয়ানের একটি ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ধোঁয়াশাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বা শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।’
চলতি বছর আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ফিলিপাইন জানিয়েছে, আগামী মাসের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ধোঁয়ার বিষয়টি থাকবে। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডমিনিক জেভিয়ার ইম্পেরিয়াল বলেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করা হবে। ওই বৈঠকের পর ম্যানিলায় আসিয়ানের ৪৯তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
মোহামাদ জানান, দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়া প্রায় ৬০ হাজার কর্মী মোতায়েন করেছে। কিন্তু ঘন ধোঁয়ার কারণে বিমান ও হেলিকপ্টারসহ ৩৪টি বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্গম এলাকা ও পানির সীমিত সরবরাহও আগুন নেভানোর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। উপযুক্ত বৃষ্টিবাহী মেঘ না থাকায় কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিলেও আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ধোঁয়াশার কারণে মালয়েশিয়ার সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এএম
