বিচ্ছেদের পরও দুটো মানুষ আলাদা হলেও মনের কোণে অনুভূতিটা যেন থেকেই যায়। চেনা রাস্তা, চেনা গন্ধ মুহূর্তে ফিরিয়ে নিয়ে যায় হারানো দিনে। এরপর কেউ চোখের জলে বালিশ ভেজায়, কেউ আবার অন্য কোনও কাজে নিজেকে ডুবিয়ে ফেলেন। তবে অনেকেই আছেন যারা পুরনো ছবি, চ্যাট খুব যত্ন করে জমিয়ে রাখেন। এই মন খারাপের রাতে তা হাতড়ে দেখেন তাঁরা। জানেন এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ?
১. পুরনো মেসেজ পড়া এক ধরণের আত্ম-পর্যালোচনা। অতীতের চ্যাট পড়ে বেশিরভাগই মনে জমে থাকা অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সুরাহা খোঁজেন। কারও কাছে এটি আবেগ নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম। কারও কাছে আবার স্রেফ নস্টালজিয়া। ফিরে পাওয়া বা ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও এই পুরনো কথোপকথন কখনও কখনও মানসিক শান্তি দেয়। মুখে হাসি ফোটায়।
২. কেউ আবার নিজের পরিবর্তনকে পরখ করতে পুরনো চ্যাট পড়েন। কখনও কখনও তথ্য নিশ্চিত করতে বা সব ঠিকঠাক মনে আছে কি না, তা যাচাই করতেও কেউ কেউ পুরনো চ্যাট পড়েন। কারণ, মেসেজ হল আমাদের অতীত, অতীত সম্পর্ক এবং অতীতের সত্বার কাছে পৌঁছানোর এক একটি ডিজিটাল দুয়ার। যখন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়, তখন পুরনো বার্তা অনেক ক্ষেত্রেই নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার সাহস জোগায়। বুঝিয়ে দেয় সব ভুল তাঁর ছিল না। আগে অনেকেই চিঠি জমিয়ে রাখতেন বছরের পর বছর। এখন আর তার প্রয়োজন পড়ে না। ডিজিটাল যুগে সেই অভাব পুষিয়ে দেয় পুরনো জমিয়ে রাখা চ্যাট।
৩. কেউ স্রেফ আবেগের বশেই ঢুঁ মারেন পুরনো চ্যাটে। মানুষটিকে ফেরাতে না পারলেও পুরনো চ্যাট অতীতের মুহূর্তগুলোকে চোখের সামনে তুলে ধরে। কেউ স্মৃতির স্মরণী ধরে ঘুরে আসেন হারানো সময়ে। তবে আপনি যদি মানসিক ক্ষত কাটিয়ে উঠতে চান, তবে বার্তাগুলো আঁকড়ে ধরে রাখার পরিবর্তে মুছে ফেলাই হবে সবচেয়ে ভালো কাজ। অন্যথায় জমিয়ে রাখুন এমন ফোল্ডারে যেখানে চাইলেই খুলে দেখার সুযোগ থাকবে না।
