খাবার থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী। গ্রাহকের কাছে ডেলিভারি করতে গিয়ে এজেন্টদের হেনস্তা, অপমান নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। তেমনই এক কাণ্ডের পরিণতি হল মর্মান্তিক। ছেঁড়া নোট নিতে আপত্তি করায় অপমান করেছিলেন গ্রাহক। সেই অসম্মান সইতে না পেরে শেষমেশ নিজেকে শেষ করে দিলেন দিল্লির ২৩ বছর বয়সি ডেলিভারি এজেন্ট।
দিল্লির বাসিন্দা ২৩ বছরের ডেলিভারি এজেন্টের নাম সমীর হুসেন। তিনি একটি জনপ্রিয় অনলাইন বিপণি সংস্থায় ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন। গত ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বিনোদ নগর এলাকায় রামপাল সিং নামের এক গ্রাহকের বাড়িতে একটি অর্ডার পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ১৫০ টাকা জোগাড় করতে ক্রেতা প্রায় ১৫ মিনিট লাগিয়ে দেন। তাতে আপত্তি জানাননি সমীর। কিন্তু পরে দেখা যায় যে ১৫০ টাকা ওই গ্রাহক এনেছেন সেটার মধ্যেও একটি ছেঁড়া ১০ টাকার নোট ছিল। সমীর সেটা নিতে চাননি। ওই নোটটি বদলে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
কিন্তু সমীরের সেই অনুরোধ ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেন ওই গ্রাহক। অভিযোগ, সমীরকে তিনি সাফ বলে দেন, “আমার কাছে এই আছে। নিতে হলে নাও, না পোষালে চলে যাও।” অভিযোগ ওই গ্রাহক সমীরকে গালিগালাজ করেন। তাঁর দারিদ্র নিয়ে খোঁটা দেন। এমনকী সমীরকে থাপ্পড়ও মারেন তিনি। এর পরই সমীর একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। তাঁর সঙ্গে কী কী হয়েছে, পুরোটা বর্ণনা করেন। শেষে প্রশ্ন তোলেন গরিব হওয়া কি অপরাধ?
বাড়ি ফিরে পরদিনই বিষ পান করেন সমীর। টানা ১৫ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর ২০ অক্টোবর মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ঠিক একদিন পর অর্থাৎ ২১ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন ছিল। সমীরের পরিবার ওই ক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ নম্বর ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
