তিন দশকের বেশি সময় ধরে গিটারের সুরে দেশের বহু সংগীতশিল্পীকে সঙ্গ দেওয়া পরিচিত গিটারশিল্পী রাসেল খান আর নেই। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানীতে বড় বোনের বাসায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।
যন্ত্রসংগীতশিল্পী আজমীর বাবু জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমে গেলে হঠাৎ স্ট্রোক করেন রাসেল খান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজমীর বাবু জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ৩টায় বনানী মডেল স্কুলে রাসেলের জানাজা হয়। সেখান থেকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে গ্রামের বাড়িতে আরেক দফা জানাজার পর তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন রাসেল খান। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আজমীর বাবু বলেন, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে রাসেল খান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তবে তার ডেঙ্গুর ধরনটি চিকুনগুনিয়াসংশ্লিষ্ট ছিল, যা শারীরিকভাবে বেশ জটিলতা তৈরি করে। হাসপাতালে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
আজমীর বাবু আরো বলেন, পরবর্তী সময়ে চিকুনগুনিয়ার প্রভাবে তার পায়ে পানি জমা এবং বাতজনিত জটিলতা দেখা দিলে স্বজনরা তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কিডনির কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। পরে সুস্থ হয়ে গত ১৩ অক্টোবর সহশিল্পীদের সঙ্গে একটি সংগীতানুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।
রাসেল খান স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে দেশের প্রথম সারির প্রায় সব সংগীতশিল্পীর সঙ্গে গিটার বাজিয়েছেন রাসেল খান। তার মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী ও শিল্পীরা তার সঙ্গে কাটানো স্মৃতি তুলে ধরে শোক প্রকাশ করছেন।
বাংলাদেশ মিউজিশিয়ান্স ফাউন্ডেশন তাদের সদস্য ও লিড গিটারিস্ট রাসেল খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে সংগঠনটি।
সংগীতশিল্পী মাকসুদ হক তার ব্যান্ড ‘মাকসুদ ও ঢাকা’র সাবেক এই লিড গিটারিস্টের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে লিখেছেন, গভীর কষ্ট ও অনুশোচনা নিয়ে তিনি তার গুণী সংগীতসঙ্গী, বন্ধু ও সাবেক লিড গিটারিস্ট রাসেল খানের মৃত্যুর খবর জানাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মাকসুদ হক স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসঙ্গে মঞ্চে গান করা, গভীর রাতে অনুশীলন, নতুন সৃষ্টির আনন্দ এবং নীরব বন্ধুত্বের স্মৃতি তার হৃদয়ে চিরকাল গাঁথা থাকবে। রাসেলের স্ত্রী শারমিন খান ও পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি সহশিল্পী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে রাসেলের বিদেহী আত্মার চিরশান্তির জন্য দোয়া কামনা করেন।
সংগীতশিল্পী বেলাল খানও রাসেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, সব সময় হাসিখুশি থাকা মানুষটি এভাবে চলে যাবেন, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। সংগীতাঙ্গনের সবার প্রিয় মানুষ, প্রিয় গিটারশিল্পী ও বড় ভাই রাসেল খান আর নেই।
বেলাল খান আরো লেখেন, একসঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি ও ভালো লাগার মুহূর্ত বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। কিছু মানুষের চলে যাওয়া শুধু শূন্যতা তৈরি করে না, হৃদয়ের একটি অংশও যেন সঙ্গে নিয়ে যায়। রাসেলের হাসিমাখা মুখ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা সবার স্মৃতিতে চিরকাল বেঁচে থাকবে বলে উল্লেখ করে তিনি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
সানা/আপ্র/২২/১০/২০২৬
