Published on
:
2 min read
এই সময়, চন্দ্রকোণা: হিন্দু পরিবার হয়েও কেন তাঁরা অন্য ধমের্র আচার আচার নিয়মকানুন পালন করেন, এই ‘দোষে’ গ্রামের তিনটি পরিবারের বাড়িতে চড়াও হয়ে মারধর, হুমকি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠলো। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে তাঁদের জোর করে পুজোর মণ্ডপে অঞ্জলি দিতে এবং পুজোর প্রসাদ খেতেও বাধ্য করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা। পুলিশে অভিযোগ করায় দেখে নেওয়ার হুমকি আসছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। ওই তিন পরিবারের নিরাপত্তায় তাঁদের বাড়ির সামনে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা থানার মনোহরপুর –২ পঞ্চায়েতের পাতলাপুর গ্রামের ওই তিনটি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবারের সদস্য লক্ষ্মী মণ্ডল বলেন, ‘আমরা হিন্দু। তবে খ্রিস্টান ধর্মে ভালবাসি। প্রার্থনা করি। তাই ওরা বলে যে, ‘তোরা ধর্ম পরিবর্তন করেছিস’। কিন্তু আমরা ধর্ম পরিবর্তন করিনি। তবুও ওরা তা বিশ্বাস না করে দুর্গাপুজো চলাকালীন আমাদের বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর, মারধর করে। জোর করে সবার সামনে মহিলাদের স্নান করিয়ে তুলসী–বেলপাতা খাইয়ে অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ানো হয়।
পুলিশে জানালে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হলেও আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। পুলিশ আমাদের পাশে থাকার ভরসা দিচ্ছে। বাড়ির সামনে পুলিশ পিকেট রয়েছে।’ আর এক নির্যাতিত পরিবারের সদস্য অশোক মণ্ডলের কথায়, ‘আমরা খ্রিস্ট ধর্মে বিশ্বাস করি। বাড়িতে প্রার্থনাও হয়। যিশুর ফটো,বাইবেল রয়েছে। এসবের জন্য গ্রামের কিছু লোক জোর করে আমাদের বাড়িতে চড়াও হয়ে মারধর করেছে। ভাঙচুর, লুটপাট চালিয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ অক্টোবরের ওই ঘটনায় পরদিন থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগ পেয়েই এফআইআর দায়ের করে হত্যার চেষ্টা, লুটপাট, শ্লীলতাহানি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন–সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। ওই পরিবারগুলির সঙ্গে যাতে আর এই ধরনের কোনও ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে বাড়ির সামনে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছ।অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে।’
এই বিষয়ে চন্দ্রকোণা বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত দোলই বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে কী ঘটেছে তা পুলিশ দেখছে। কোথাও কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে পুলিশ–প্রশাসনকে জানান। তারা দেখবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার দরকার নেই। জোর করে কাউকে ধর্ম পালন করানো ঠিক নয়। ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে আমরা।’
