শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার পাঁচপুকুরিয়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ চক্ষু শিবির পরিচালিত হয়। এতে প্রায় ৩০০ জন দুস্থ ও সাধারণ রোগী অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ গ্রহণ করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ছানি আক্রান্ত ৮০ জন রোগীকে শনাক্ত করা হয়। তাঁদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য আলেখার চর এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে চশমা বিতরণ করা হয়।
চক্ষু শিবিরটির পরিচালনায় ছিল কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতাল ও বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা। সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল মুরাদনগর সমিতি-ঢাকা।মুরাদনগর সমিতি-ঢাকার সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনামুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আয়োজনে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন আহমদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আজিজ মোল্লা। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি মো. রকিব উদ্দিন সরকার ও মো. জহিরুল ইসলাম, শিক্ষা ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল আলীম, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রাশেদ আহমেদ রিশাত, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ মো. মোসলেম উদ্দিন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য গাজী আক্তারুজ্জামান, তফাজ্জল হোসেন, হোসেন মাঝি, শামসুল আলম ও কামরুজ্জামান সরকারসহ অন্যরা।
বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক বয়স্ক ও অসহায় রোগী। তাঁদের কয়েকজন জানান, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না। বাড়ির কাছেই বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ওষুধ, চশমা এবং ছানি অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। এমন উদ্যোগ তাঁদের চিকিৎসা পাওয়ার দীর্ঘদিনের বাধা অনেকটাই দূর করেছে বলে জানান তাঁরা।
আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। তাঁরা আরও জানান, মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।স্থানীয়দের মতে, অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত মানুষের জন্য এমন বিনামূল্যের চক্ষু শিবির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছানি আক্রান্ত রোগীদের বিনা খরচে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার নতুন আশার সৃষ্টি করেছে।
The post বিনামূল্যে চক্ষুসেবায় আলোকিত মুরাদনগর, হাসলো তিন শতাধিক অসহায় মানুষ appeared first on ভোরের চেতনা.
