ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বাংলাদেশী প্রবাসীদের মধ্যে। তবুও থেমে নেই প্রবাসীদের জীবন যুদ্ধ। হামলার আশঙ্কা, নিরাপত্তা সতর্কতা আর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাতের খবরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে কাজে যেতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে, ঝঁকিতে থাকা প্রবাসীদের নিয়ে দেশে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সবসময়ই তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন স্বজনরা।
সৌদি আরবে অবস্থানরত বেশ কয়েকজন সিলেটি প্রবাসীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা ও নিত্যদিনকার কাজকর্মের কথা জানার চেষ্টা করেন এ প্রতিবেদক।
সিলেটের সদর উপজেলার বাসিন্দা লোকমান হোসেন রিয়াদে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। সুনামগঞ্জের পৌর শহরের সিফাত আহমদ কাজ করেন একটি খাদ্য উৎপাদন কারখানায়। একইভাবে ধর্মপাশার নুরুল হাসান নামের এক প্রবাসী পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে সেখানে কর্মরত।
এদের তিনজন প্রবাসীর কাজের ধরন আলাদা হলেও তাদের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাদের।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় প্রাণহানি ও বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন বাংলাদেশি। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।
এরপরও সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার হুমকি অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া যায়। ১৪ অক্টোবর রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি দিয়েছে। এর আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে।
রিয়াদে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করা লোকমান হোসেন বলেন, প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে তাকে রাস্তায় বের হতে হয়। হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে খবর শুনলে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা হয়। নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবারের কথাও মনে পড়ে তার।
লোকমান বলেন, দেশে পরিবারের সদস্যরা আমাদের আয়ের ওপর নির্ভর করেন। কাজ বন্ধ রাখলে সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে যাবে। তাই পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর রেখে কাজ করতে হয়। তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়লে আমাদের মতো প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
গাড়িচালক হিসেবে প্রতিদিন সড়কে চলাচল করতে হয় লোকমানকে। ফলে তার কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলাচলের পথ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ। হামলার আশঙ্কার মধ্যে কর্মস্থলে যাতায়াত ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কী ধরনের সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে, সেটিও প্রবাসীদের নিরাপত্তার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রিয়াদের একটি খাদ্য উৎপাদন কারখানায় কাজ করেন সিফাত আহমদ। পরিবারের জন্য ভালো কিছু করার আশায় প্রবাসে এসেছেন তিনি। দেশে টাকা পাঠিয়ে পরিবারের নানা খরচ মেটাতে হয় তাকে। তবে হামলার খবর শুনলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগও বাড়ে।
সিফাত বলেন, প্রবাসে পরিবারের জন্য আয় করতে এসেছি। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে কাজে বের হওয়ার সময়ও দুশ্চিন্তা হয়। দেশে পরিবারের সদস্যরা আমাদের খবর জানতে চান। তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করি। আমরা চাই, পরিস্থিতি যাই হোক, কর্মস্থলে নিরাপত্তার বিষয়টি যেন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সে বিষয়ে কর্মীদের আগেই জানানো হয়।
রিয়াদে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন নুরুল হাসান। পরিবারের খরচ চালানো এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রবাসে কাজ করছেন তিনি। নুরুল হাসান বলেন, কাজ বন্ধ হয়ে গেলে আয় নিয়ে সমস্যা তৈরি হবে। তাই নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতেছি। আমরা চাই, প্রবাসে যেন নিরাপদে কাজ করতে পারি এবং পরিবারের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারি। দিন শেষে পরিবারের মুখে হাসি থাকলে সারাদিনের কষ্টও দূর হয়ে যায়।
এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সৌদি বিমান বন্দরে হামলার পর সেখানকার প্রবাসীদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করা হয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের সতর্কতা অবলম্বন ও নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সমস্যায় দূতাবাসের নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
