Published on
:
2 min read
ছোটবেলায় আত্মীয়-পরিজন থেকে পরিচিতজন, অনেকের মুখেই শোনা যায়, ‘একেবারে মায়ের মতো দেখতে হয়েছে’ কিংবা ‘পুরো বাবার মুখ পেয়েছে’। কিন্তু সন্তানের মুখের সঙ্গে বাবা-মায়ের চেহারার মিল খোঁজার এই অভ্যাস কখনও, কারও ক্ষেত্রে নস্ট্যালজিক করে তোলে। অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের জীবনেও এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে বাবা-মা দু’জনকেই হারানোর পর সেই চেহারার মিল খোঁজার অর্থই যেন বদলে গিয়েছে তাঁর কাছে। এ বার পুজোর এক সকালে তোলা নিজের কয়েকটি ছবি দেখতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে নিজের মুখের মিল খুঁজে পেলেন অভিনেত্রী। আর সেই উপলব্ধিই ভাগ করে নিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
স্বস্তিকার কথায়, ছোটবেলা থেকেই তাঁকে নানা ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর চোখ নিয়ে কৌতূহল ছিল অনেকের। তাঁর বাবা-মায়ের চোখের সঙ্গে তাঁর চোখের মিল নেই কেন, সেই প্রশ্নও শুনতে হয়েছে তাঁকে। অথচ সন্তানের চেহারা ঠিক কেমন হবে, তা কি তার নিজের হাতে থাকে? অভিনেত্রীর কথায় 'সন্তানকে কার মতো দেখতে, তা নিয়ে সমাজের এই অহেতুক কৌতূহল যেন অনেক সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের সত্যতা প্রমাণের তাগিদ থেকেই তৈরি হয়।'
স্বস্তিকা লিখেছেন, ছোটবেলায় তিনি জানতেন, তাঁকে দেখতে বাবার মতো। তাঁর বাবা-মাও নাকি সেটাই জানতেন। অন্যদিকে, তাঁর বোন যেন মায়ের অবিকল প্রতিচ্ছবি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোনের চেহারা, হাঁটাচলা, শরীরী ভাষা—সবেতেই মায়ের ছাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে। এমনকি মায়ের মতো রান্নার প্রতি ঝোঁক, রান্নায় দক্ষতা এবং সন্তান জন্মের পর শরীরে পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও দুই বোনের মধ্যে বিস্তর ফারাকের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
স্বস্তিকা বাবা-মা দু’জনকেই হারানোর পর থেকেই নিজের মধ্যে তাঁদের ছাপ খুঁজতে শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর মনে হত, দেখতে যেন বাবা-মা দু’জনের মতোই হন তিনি। নিজের মুখে বাবার চেনা চোখের ছাপ খুঁজে পেলেও, মায়ের মতো হয়ে ওঠার অপেক্ষা যেন থেকেই গিয়েছিল।
নিজের সেই আবেগঘন অনুভূতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়ে স্বস্তিকা লিখেছেন, তাঁর বোন প্রতি মাসেই যেন আরও একটু করে মায়ের মতো হয়ে উঠছে। বোনকে দেখলে মনে হয়, মায়ের জুনিয়র সংস্করণ। অথচ তাঁর নিজের ক্ষেত্রে সেই মিল খুঁজে পেতে লেগে গেল ৪৫টি পুজো। তবু শেষ পর্যন্ত সেই মিল খুঁজে পেয়েছেন, এতেই যেন তৃপ্ত অভিনেত্রী।
