ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৫ সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০ জনের বেশি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে এ হামলা হয় বলে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে জানিয়েছেন সরকারি সামরিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, প্রদেশটির রাজধানী আতাকের কাছে জারদান জেলার আল-আলাম সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র তিনটি আঘাত হানে। ঘাঁটির ভেতরে থাকা একটি প্রশিক্ষণ শিবিরকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছেন ওই কর্মকর্তা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনাস্থলে বহু হতাহতকে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় চিকিৎসাসূত্র জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তা আরও বাড়তে পারে।
আহতদের শাবওয়া প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসা দল কাজ করছে। উদ্ধার করা কয়েকটি মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
আল-আলাম একটি বড় সামরিক স্থাপনা। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনী ব্যবহার করছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটও এসব বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
তবে হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি হুতি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে সরকারি ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সকালের প্রশিক্ষণ চলাকালে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলাটি চালানো হয় বলে জানিয়েছেন সরকারি সূত্রগুলো। ফলে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে ইয়েমেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আরেকটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে ইয়েমেন ।
