নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ণ
বিদায়বেলায় ভক্তদের চোখে জল, হৃদয়ে বিষাদ আর আগামী বছরের অপেক্ষা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে খুলনার ভৈরবের জেলখানা ঘাটসহ ৬টি স্থানে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। এসময় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা শেষে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে জেলখানা ঘাটে জড়ো হন ভক্তরা। এ সময় ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে ঘাট এলাকা। একদিকে দেবীকে বিদায় জানানোর বিষাদ, অন্যদিকে আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশা—এমন আবেগঘন পরিবেশে চলে বিসর্জন। এর আগে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতায় চলে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সিঁদুর খেলা। লালপেড়ে শাড়ি পরা নারীরা একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে উৎসবে অংশ নেন। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক ভক্ত।
খুলনা মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্ডু বলেন, খুলনায় চরেরহাট, রেলিগেট, দৌলতপুর লঞ্চ ঘাটসহ ছয়টি স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলখানা ঘাটে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এখানে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও খুলনা মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, মঞ্চ ও জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। সব মিলিয়ে ঘাট এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিসর্জনকে কেন্দ্র করে জেলখানা, ঘাট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। ভক্তদের ভিড় সামলানো ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল।
এ বছর খুলনা জেলায় ৮৮৭টি এবং খুলনা মহানগরে ৭৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। মহানগরে ছয়টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে।
খুলনা গেজেট/উউরা
