যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের ২০ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধের সময় দেশটির আরও ৭০ থেকে ৮০টি উড়োজাহাজ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ইরান এয়ারের প্রধান নির্বাহী তাহের আবদোলহাই এ তথ্য জানিয়েছেন। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবদোলহাই বলেন, ইরানের বিমান চলাচল খাতের চাহিদা মেটাতে প্রায় এক হাজার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে দেশটির বহরে রয়েছে ৩০০টির মতো উড়োজাহাজ।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে এসব উড়োজাহাজের মধ্যে ১৩০ থেকে ১৪০টি সচল ছিল। সংঘাত চলাকালে ২০ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের জাতীয় বিমান সংস্থা ইরান এয়ার ‘হোমা’ নামেও পরিচিত। সংস্থাটির প্রধান দাবি করেন, ইসরাইলের হামলায় তাদের উড়োজাহাজ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য কয়েকটি সংস্থার উড়োজাহাজে একটি করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও ইরান এয়ারের একটি উড়োজাহাজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
আবদোলহাই বলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে ইরান এয়ারের কার্যক্রম। এতে সংস্থাটির সচল উড়োজাহাজের সংখ্যা কমেছে এবং লাভজনক আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলের সুযোগও সীমিত হয়েছে।
বিমান সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জানান, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ সংগ্রহে জটিলতা, আর্থিক সংকট এবং কর্মীসংক্রান্ত নানা সমস্যা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইরান এয়ারে ৯ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। সচল উড়োজাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সংস্থাটির দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
ইরান এয়ারকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন আবদোলহাই। তার মতে, জাতীয় এই বিমান সংস্থা শুধু বাণিজ্যিক পরিবহনসেবা দেয় না; দেশটির কৌশলগত জাতীয় স্বার্থ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই সংস্থাটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক লাভের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেশটির বিমান চলাচল খাতকে চাপে রেখেছে।
২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ানোর পর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে বোয়িং ও এয়ারবাসের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণসেবার অভাবে কিছু উড়োজাহাজ বসিয়ে রাখতে হয়েছে, পাশাপাশি বেড়েছে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু