উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে মঙ্গলবার রাতে পিএসজির বিপক্ষে খেলতে নেমে দুবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাব বার্সেলোনা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুই গোল হজম করলে শেষ রক্ষা আর হয়নি। ফলে পিএসজির ঘরের মাঠে ৪-২ গোল ব্যবধানে হেরেছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করে পিএসজি। এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে খভিচা কাভারৎসখেলিয়ার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও ২০ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় ওসমান দেম্বেলেকে। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফেরান তোরেস। চোটের কারণে কিছুক্ষণ পর বার্সেলোনাও হারায় দানি ওলমোকে।
প্রথমার্ধের ৩৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় পিএসজি। নিজেদের অর্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বার্সেলোনাকে বিপদে ফেলেন লামিনে ইয়ামাল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করেন ডেজিরে ডুয়ে। বিরতিতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরাই।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেই ম্যাচে সমতা আনে বার্সেলোনা। ৫৫তম মিনিটে ফারমিন লোপেজের পাস ধরে বক্সে ঢুকে গোল করেন তরুণ জাভি এসপার্ট। সিনিয়র দলের হয়ে এটি তার দ্বিতীয় গোল। এরপর ম্যাচে গতি বাড়ে আরও।
৭২তম মিনিটে আবার এগিয়ে যায় পিএসজি। কর্নার থেকে আসা বলে হেড করে গোল করেন লুকাস হার্নান্দেজ। নিয়মিত বাঁ-পাশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নুনো মেন্দেস না থাকায় ইয়ামালকে সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন হার্নান্দেজ। গোল করার কিছুক্ষণ পরই তাকে তুলে নেন কোচ লুইস এনরিকে।
তবে পিএসজির সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৭৯ মিনিটে উঁচু হয়ে আসা বল সামলাতে গিয়ে ভুল করেন বদলি হিসেবে নামা ওয়ারেন জাইরে-এমেরি। সেই সুযোগে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোল করেন ইয়ামাল। এতে ২-২ সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে এটি ইয়ামালের দশম গোল। এই গোলের মধ্য দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে ৫০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করে বার্সেলোনা।
ম্যাচের শেষদিকে অবশ্য আর কোনো সুযোগ দেয়নি পিএসজি। ৮১তম মিনিটে বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন ভিতিনিয়া। পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর ৮৬তম মিনিটে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে পিএসজির জয় নিশ্চিত করেন ফাবিয়ান রুইজ।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন ম্যাচ জিতল পিএসজি। অন্যদিকে, মৌসুমের শুরুতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পেল বার্সেলোনা।
এমএমএম/
