যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া সমুদ্রের তলদেশের যোগাযোগ ক্যাবলে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এ দিকে কাতার বলছে, এসব ক্যাবলে বিঘ্ন ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের চেয়ে ইরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে হামলা ও হুমকি বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে দোহা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের বাহিনীটি ওই হুমকি দেয় বাহিনীটি।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি প্রধান ডেটা যোগাযোগ ক্যাবল গেছে।’ তার দাবি, ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক ডেটার সব প্রবাহ এসব ক্যাবলের মধ্য দিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ করা হবে। নতুন অস্ত্রেরও আত্মপ্রকাশ ঘটবে।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মোহেব্বি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অবশিষ্টাংশ বলে তিনি যাকে উল্লেখ করেছেন, সেগুলোকে অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার করেছেন।
এর আগে মার্চের শুরুর দিকে ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতি, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং ক্লাউড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার পরই নতুন হুমকি এলো।
টেলিযোগাযোগ খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ডেটা পরিবহনের ৯০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
দোহা নিউজ জানায়, মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলো সেচ, লবণ উৎপাদন ও মৎস্য আহরণের জন্য হরমুজ প্রণালির পানির ওপর নির্ভরশীল। তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষয়ক্ষতি হলে পানির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
কাতার বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্রের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ইরানসহ পুরো অঞ্চলের দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে জলপথটিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা ও হুমকি অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবারের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, সমুদ্রের তলদেশে থাকা ক্যাবল সংযোগে কোনো বিঘ্ন ঘটলে ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।
আল-হাশমি বলেন, ‘ইরানের পক্ষের কেউ যদি সৎভাবে পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করেন, তাহলে তিনি প্রশ্ন করবেন—সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত কে?’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল; বরং ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবে।
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে এ অঞ্চলের ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে।
গত মাসে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী ইয়েমেনের ভূখণ্ড দখল করে নেয় ইরান-সমর্থিত হুতিরা। এ ঘটনায় ইউরোপ ও এশিয়াকে সংযুক্ত করা ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
