পুজো শেষ হয়েছে। উৎসবের শেষে মনখারাপের বিষণ্ণ রং ফিরে আসছে যেন। তবু উৎসব তো আসলে শেষ হয় না। তা এক পর্ব পেরিয়ে পরের পর্বের দিকে এগিয়ে যায়। তাই এবারের বিজয়া দশমীর পর থেকেই শুরু হয়েছে দিন গোনা। আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আর ৩৬৫ দিনও বাকি নেই। এর মধ্যেই কলকাতার বেশ কয়েকটি পুজো কমিটি ঘোষণা করে দিয়েছে আগামী বছরের শিল্পীদের নাম। দেখা গিয়েছে, কেউ কেউ যেমন নতুন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে চাইছেন, তেমনই কেউ কেউ আবার ভরসা রাখছেন এবারের শিল্পীর উপরই। সেই সঙ্গেই গুঞ্জনও রয়েছে কয়েকটি পুজোকে ঘিরে, যারা এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।
২০২৬ সালে সমাজ সেবী সংঘ তাদের ৮১তম বর্ষের দুর্গাপুজোর থিম হিসেবে বেছে নিয়েছিল উত্তম কুমারকে। ‘মহাপুজোয় মহানায়ক’ মন জিতেছে দর্শনার্থীদের। জিতেছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। তবে আগামী বছরে তাদের পুজো ভাবনায় শরিক হচ্ছেন শিল্পী অনির্বাণ। পুজো উদ্যোক্তারা ঘোষণা করেছেন তাঁর নাম। এই প্রথম তিনি কাজ করবেন সমাজ সেবী সংঘের সঙ্গে।
এবারের দুর্গাপুজোয় দমদম পার্ক তরুণ দলের পুজো ভাবনা ছিল ‘জোট’। এবারের শিল্পী ছিলেন পূর্ণেন্দু দে। তবে আগামী বছর শিল্পী হিসেবে থাকবেন প্রদীপ দাস। প্রদীপ আগেও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। ফের তিন ফিরছেন তরুণ দলে। এদিকে নাকতলা উদয়ন সংঘের শিল্পী হিসেবে এবারের মতোই পরের বারও থাকবেন অনির্বাণ। নাকতলার এবারের পুজো সকলের মন জিতেছে। থিম ছিল ‘কালধ্বনি’। বহু পুরস্কার ও সম্মাননা জেতার পর ফের অনির্বাণেই ভরসা রাখছে তারা।
একই ভাবে রাজডাঙা আমরা ক’জন কল্যাণ সমিতি, রাজডাঙা নব উদয় সংঘ, দমদম পার্ক ভারতচক্রও ভরসা রাখছে এবারের শিল্পীতেই। তিনটি ক্লাবের পুজো ভাবনা ছিল যথাক্রমে ‘উৎসারিত আলো’, ‘শোধন’ ও ‘বঙ্গের রথ কথা’। শিল্পীরা হলেন পূর্ণেন্দু দে, দেবাশিস বাড়ুই এবং মানস দাস। বিভিন্ন শারদ সম্মান এবং দর্শনার্থীদের ভালোবাসা পেয়েছে তিনটি পুজোই। তিনটি ক্লাবের পুজো উদ্যোক্তাদের তরফে তাই এখনই ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে তাঁরা এই শিল্পীদের উপরই ভরসা রাখছেন পরের বারের জন্যও।
এদিকে শিল্পী বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দমদম পার্ক তরুণ সংঘ। তাদের এবারের শিল্পী ছিলেন। পুজো ভাবনা তথা থিম ছিল ‘বেনিয়া কথা’। পুরস্কার ও দর্শনার্থীদের মুগ্ধতা দুই-ই জয় করেছে এই পুজো। কিন্তু আগামী বছর তারা শিল্পী বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরের বার এই ক্লাবের হয়ে শিল্পী হিসেবে কাজ করবেন মলয় ও শুভময়।
২০২৬ সালে প্রথমবার থিম পুজো শুরু করেছে তেলিপুকুর যুব সংঘ। ‘এক পুকুর ভালোবাসা’ জিতেছে বহু পুরস্কার। শিল্পী ছিলেন ভবতোষ সুতার। তিনি আগামী বছরও ক্লাবের পুজো ভাবনার দায়িত্বে থাকবেন বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এর মধ্যেই।
এগুলি সবই ঘোষণার কথা। এর বাইরেও রয়েছে গুঞ্জন। টালা প্রত্যয়ের এই বছরের মূল ভাবনা বা থিম ছিল ‘বিয়োজন’। শিল্পী হিসেবে ছিলেন সুশান্ত শিবানী পাল। কিন্তু পরের বছরের পুজোয় তারা বড় চমক দিতে চলেছে। প্রথমবার জুটি বাঁধছেন অনির্বাণ-সনাতন। টালা প্রত্যয়েও তাঁরা প্রথম বারই কাজ করছেন। প্রতিমা নির্মাণে সনাতন দিন্দা। একই ভাবে সন্তোষপুর লেক পল্লি ও বেহালা ইয়ং মেন্স অ্যাসোসিয়েশনেরও প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্ব পাচ্ছেন সনাতন, গুঞ্জন তেমনই।
