আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএল ২০২৭-এর নিলামের আগে হার্দিক পান্ডিয়াকে ঘিরে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের তারকা অলরাউন্ডারকে নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম উঠে এসেছে। বিশেষ করে মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংসে হার্দিকের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ক্রিকেটমহলে জোর আলোচনা চলছিল। তবে সেই জল্পনায় নতুন মোড় আনলেন ভারতের প্রাক্তন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তাঁর দাবি, চেন্নাইয়ের তুলনায় হার্দিককে দলে নেওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে রাজস্থান রয়্যালস।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে হার্দিকের সম্ভাব্য ট্রেড নিয়ে মুখ খোলেন অশ্বিন। তিনি জানান, ধোনি ব্যক্তিগতভাবে হার্দিককে চেন্নাইয়ে যোগ দেওয়ার জন্য রাজি করাতে পারেন বলে আলোচনা থাকলেও, সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হওয়া যথেষ্ট কঠিন। অশ্বিনের কথায়, তাঁর কাছে যে খবর রয়েছে, তাতে হার্দিককে দলে নেওয়ার দৌড়ে সবার আগে রয়েছে রাজস্থান রয়্যালস।
২০২৪ সালের আইপিএলের আগে গুজরাট টাইটান্স থেকে ট্রেডের মাধ্যমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে ফিরেছিলেন হার্দিক। তাঁকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হলেও, রোহিত শর্মার পরিবর্তে নেতৃত্বভার গ্রহণের পর থেকেই বিতর্কের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। দলের পারফরম্যান্স এবং অধিনায়কত্ব নিয়ে সমর্থকদের একাংশের অসন্তোষও বাড়তে থাকে। ফলে হার্দিকের মুম্বইয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
২০২৬ সালের আইপিএলেও ব্যাট ও বল হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। ১৬.৩৫ কোটি টাকায় তাঁকে দলে ধরে রেখেছিল মুম্বই। কিন্তু ১০টি ম্যাচে মাত্র ২০৬ রান করেন হার্দিক। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৮.২৫। বল হাতে শিকার করেন মাত্র চারটি উইকেট। এর আগের মরশুমে অবশ্য ২২৪ রান করার পাশাপাশি ১৪টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। পরিসংখ্যানের এই পতন তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
এরই মধ্যে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কোচিং বিভাগেও পরিবর্তনের খবর সামনে এসেছে। মাহেলা জয়বর্ধনের সরে যাওয়ার খবর এবং রোহিত শর্মাকে পুনরায় অধিনায়ক করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও হার্দিককে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত নয়, তবু তাঁকে নিয়ে ট্রেডের জল্পনা থামছে না।
অন্যদিকে, চেন্নাই সুপার কিংসে হার্দিকের যোগদানের পথে বাধা হয়ে উঠতে পারে দলের নতুন কোচিং সমীকরণ। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের পরিবর্তে জাহির খানকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ করেছে সিএসকে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। জাহিরের সঙ্গে হার্দিকের পুরনো মতবিরোধের জল্পনাও সামনে এসেছে। সেই কারণেই ধোনির আগ্রহ থাকলেও হার্দিককে চেন্নাইয়ে আনা সহজ হবে না বলে মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, আইপিএল ২০২৭-এর আগে হার্দিক পান্ডিয়ার দলবদল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চেন্নাই সুপার কিংসের সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও, অশ্বিনের দাবি অনুযায়ী, রাজস্থান রয়্যালসই এখন এই দৌড়ে এগিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত হার্দিক মুম্বই ছাড়বেন কি না, আর ছাড়লে কোন দলের জার্সি গায়ে চাপাবেন, তার উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য।
