সুন্দরবন, সমুদ্রবন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল— দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের সম্ভাবনাময় তিন ক্ষেত্র ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। পরে খুলনার দাকোপের নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলায় যান সরকারপ্রধান। সেখানে মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ঘিরে নলিয়ানে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সেখানে পথের পাশে
দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন তারেক রহমান। এ সময় ভ্রাম্যমাণ বাদাম বিক্রেতা রাজু গাজীর সঙ্গে হাত মেলান তিনি। এতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাজু।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে হেলিকপ্টারে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্ট গার্ডের পন্টুনের দিকে যাওয়ার পথে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
এ সময় অনেকের সঙ্গে হাত মেলান প্রধানমন্ত্রী। কারও মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, আবার কারও সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। বাদাম বিক্রেতা রাজু গাজীর সঙ্গেও হাত মেলান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর আশায় সেখানে গিয়েছিলেন রাজু। সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন।
রাজু বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি কার সঙ্গে কথা কলাম, আমার জীবন সার্থক। বাদাম বেচি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলাইছি, আর কী লাগে।’
পরে তিনি বলেন, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার। আমার খুব ভালো লাগছে।’ এ সময় খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টুর মাথায়ও হাত বুলিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে নলিয়ান কোস্ট গার্ডের পন্টুন থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। দুপুর পৌনে ১টার দিকে মোংলার দিগরাজ নৌঘাটিতে পৌঁছান। সেখানে মধ্যাহ্নবিরতির পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বিকাল পৌনে ৩টার দিকে মোংলা বন্দর জেটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকাও ঘুরে দেখেন। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে মোংলা ত্যাগ করেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রীর সুন্দরবন পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম।
প্রধানমন্ত্রীর দাকোপ সফর প্রসঙ্গে খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, এ সফর কোনো জনসভা বা আনুষ্ঠানিক জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি ছিল না। প্রধানমন্ত্রী সেখানে কোনো বক্তব্য দেননি। যাওয়া-আসার পথে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেছেন। তার এ সফরের মধ্য দিয়ে খুলনার অবকাঠামোগত উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
