Published on
:
2 min read
শ্যামগোপাল রায়
শহর থেকে বহু দূরের গ্রাম, কিংবা মহানগরীরই অলিগলি—একমুঠো ভাত জোগাড়ে প্রতিদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলেন কত শত মানুষ। পেটের টানে চলা অন্তহীন লড়াইয়ে মা অন্নপূর্ণা যেন আজও খেটেখাওয়া মানুষের শেষ ভরসা। প্রার্থনা একটাই—'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে'। এই চিরন্তন আকুতিই এ বার পুজোর থিম সল্টলেকের একে ব্লক সর্বজনীনের। সেক্টর টু-এর এই হেভিওয়েট পুজোর এ বার ৩৯ বছর। চাকচিক্যের দৌড়ে না গিয়ে পুজো–কমিটি দিতে চেয়েছে অন্য রকম এক বার্তা—'অন্যের কথা, অন্নর কথা'।
শিল্পী রিন্টু কোনারের ভাবনায় মণ্ডপে ফুটে উঠেছে মানুষের ক্ষুধা, বঞ্চনা আর অন্যের কষ্ট অনুভবের তাগিদ। পুজো–উদ্যোক্তাদের বক্তব্য— মা অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারে যেন কারও অন্নকষ্ট না থাকে, কাউকে যেন অন্যের দয়ার পাত্র হয়ে বা বঞ্চনা সহ্য করে জীবন কাটাতে না হয়। সবার মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার মানবিক বার্তা নিয়েই সেজে উঠছে মণ্ডপ।
মণ্ডপসজ্জায় মূল ফোকাস মা অন্নপূর্ণা ও ঈশ্বরী পাটনীর সেই আখ্যান। পটচিত্রে জীবন্ত হয়ে উঠছে আবহমান বাংলার গল্প। মণ্ডপের ভিতরে তৈরি হয়েছে জলপথ, নৌকো এবং মাঝির দৃশ্যপট।
লোককথার সেই মাঝি যখন মা অন্নপূর্ণার আসল রূপ চিনে নিয়ে বর চান—'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে'—সেই চিরকালীন আর্জি যেন মিলে যায় বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক টানাপড়েন ও ক্ষুধার্ত পৃথিবীর ছবিটার সঙ্গে। শিল্পের হাত ধরে মানবিক বোধটুকু দর্শনার্থীদের মনে গেঁথে দিতে চাইছে একে ব্লক। সাবেকিয়ানার সঙ্গে আপস না করেই পুজো হয় এই ব্লকে। অন্যতম কর্মকর্তা রাজা বণিকের দাবি, 'ঐতিহ্য আর অন্নপূর্ণার আশীর্বাদকে সঙ্গী করে এ বারও সল্টলেকের এই পুজো সবার মন কাড়বে।'
লাগোয়া এজে ব্লকের মণ্ডপজুড়ে মন্দির–স্থাপত্য, তবে কোনও নির্দিষ্ট মন্দিরের অনুকরণ নয়। দক্ষিণ ভারতীয় শিল্পরীতির সূক্ষ্ম কারুকাজ ও আধুনিক ভাবনার মেলবন্ধনে সেজে উঠছে এই ব্লকের পুজো। মূল ভাবনা— 'দেবভূমি'। দ্রাবিড় স্থাপত্যের নান্দনিক রূপ ফুটে উঠছে, ভিতরে রাখা হয়েছে ফাঁকা জায়গা, যা কেবল প্রতিমাদর্শন নয়, আবাসিক ও দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের মিলনক্ষেত্রও হয়ে উঠবে।
১৪ অক্টোবর, চতুর্থীর িদনে উৎসবের সূচনা করবেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের পরিচালন সমিতির প্রবীণ সদস্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি স্বামী দিব্যানন্দ। পুজোর দিনগুলিতে থাকছে সাংস্কৃতিক আয়োজন। ব্লকের আট থেকে আশি অংশ নেবেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। পুজো কমিটির তরফে মৈনাক দত্ত বলছিলেন, 'উৎসবের আনন্দে একান্নবর্তী পরিবারের ছোঁওয়া ধরে রাখতে প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী— টানা চার দিন ব্লকবাসীর জন্যে থাকছে জমজমাট পংক্তিভোজের ব্যবস্থা।'