আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ু সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক শানমুগম বুধবার আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন। ভাগবত দাবি করেছিলেন যে, কিছু ‘অশুভ শক্তি’ শাসন পরিবর্তনের মাধ্যমে ভারতকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে। এর উত্তরে শানমুগম বলেন, বর্তমানে যে প্রতিবাদ-আন্দোলন চলছে, তা নির্দিষ্ট কিছু দাবির ভিত্তিতেই হচ্ছে। বাম নেতা আরএসএস-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে একটি ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে চিত্রিত করে জনগণের প্রকৃত ক্ষোভ ও সমস্যাগুলো থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট, ২০২৬) নাগপুরে আরএসএস-এর বার্ষিক বিজয়া দশমী উৎসবে মোহন ভাগবত যে মন্তব্য করেছিলেন, তার প্রতিক্রিয়ায় শানমুগম স্বীকার করেন যে, কমিউনিস্টরা বিজেপি সরকারকে (যা তাঁর মতে আরএসএস দ্বারা পরিচালিত) ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সারা দেশে বর্তমানে যে প্রতিবাদ চলছে, তা কেবল সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু দাবির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।
শানমুগম বলেন, “আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বিজয়া দশমী উৎসবে বলেছেন যে, চলমান প্রতিবাদগুলো আসলে শাসন পরিবর্তনের লড়াই এবং এগুলো মৌলিক সমস্যাগুলোর কোনও সমাধান করবে না।” তিনি আরও বলেন, “কমিউনিস্ট হিসেবে আমরা অবশ্যই চাই আরএসএস পরিচালিত বিজেপি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে। কিন্তু দেশের মানুষ ভালভাবেই জানেন যে, বর্তমান প্রতিবাদগুলো নির্দিষ্ট কিছু দাবির জন্যই করা হচ্ছে।”
ভাগবতকে কটাক্ষ করে সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারকে একটি ‘আদর্শ প্রশাসন’ বা ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি আসলে প্রতিবাদের পেছনের মূল সমস্যাগুলো থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
শানমুগম বলেন, “তাই, আপনারা এমনভাবে নিজেদের তুলে ধরে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করবেন না যেন আপনারা কোনও ‘স্বর্ণযুগ’ পরিচালনা করছেন আর আমরা তা ধ্বংস করার জন্য লড়াই করছি।”
প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নিয়ে যা বলেছেন মোহন ভাগবত
মঙ্গলবার নাগপুরে আরএসএস-এর বার্ষিক বিজয়া দশমী উৎসবে ভাষণ দেওয়ার সময় মোহন ভাগবত বলেন, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলনগুলো সবসময় মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অনেক সময় রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, যা জনদুর্ভোগ দূর করার পরিবর্তে সমাজে বিভাজন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বাংলাদেশ, নেপাল, ফ্রান্স ও আলবেনিয়ার সাম্প্রতিক অস্থিরতার উদাহরণ টেনে আরএসএস প্রধান বলেন, যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়, তারা প্রায়শই শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে ফেলার চেষ্টা করে, যদিও তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল সবসময় পাওয়া যায় না।
ভাগবত বলেন, "তারা দাবি করে যে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে, কিন্তু বাস্তবে এমনটা কখনওই ঘটেনি।" তিনি বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হওয়াটা স্বাভাবিক, তবে এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার সমাধান খোঁজা, সমাজে নতুন করে বিভাজন সৃষ্টি করা নয়। আরএসএস প্রধান আরও বলেন, "সমস্যা থেকেই যাবে এবং গণতন্ত্রে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অনিবার্য। কিন্তু প্রতিবাদের উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত? এর লক্ষ্য হওয়া উচিত সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা।"
ভাগবত সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনকল্যাণের পরিবর্তে অন্য কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত আন্দোলন রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে, যা কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মতাদর্শের প্রতি বিদ্বেষ উস্কে দিতে পারে। তিনি রাজনৈতিক নেতা, আন্দোলনকারী এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন এমন কোনও কাজ না করেন যা সমাজে তিক্ততা বা বিভাজন সৃষ্টি করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনসমক্ষে যেকোনও আচরণ অবশ্যই সাংবিধানিক সীমার মধ্যে এবং সভ্য আলোচনার রীতিনীতি মেনে হওয়া উচিত। তিনি বলেন, "আমাদের আবেগ যতই তীব্র হোক না কেন, আমাদের অবশ্যই সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত সীমা, সভ্য গণ-আলোচনার রীতিনীতি এবং শালীন আচরণের মানদণ্ড মেনে চলতে হবে।"
নিজের বক্তব্যে আরএসএস প্রধান আরও যুক্তি দেন যে, একটি শক্তিশালী ভারত এমন সব শক্তিকে সীমাবদ্ধ করে রাখবে, যারা দেশটিকে দুর্বল ও বিভক্ত করতে চায়। তিনি বলেন, কিছু বিশ্বশক্তি ভারতের উন্নয়ন চাইলেও, তারা এমন শক্তিশালী ভারতকে চায় না যা তাদের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
ভাগবত অভিযোগ করেন যে, কিছু শক্তি সামাজিক বিভেদকে কাজে লাগায়, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজেদের 'ভুক্তভোগী' বলে মনে করার প্রবণতাকে উসকে দেয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা চালায়, যার উদ্দেশ্য হল অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
