ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইতে সুখবর। স্মার্টফোন-ভিত্তিক অনলাইন লেনদেনে আপাতত বসছে না মাশুল। চাপে পড়ে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) চালুর তারিখ পিছনোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। ফলে, উৎসবের মরসুমে খুচরো বিক্রেতাদের মুখের হাসি যে চওড়া হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে ইউপিআইতে মাসুল চালুর কথা ঘোষণা করে কেন্দ্র। ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআর ধার্য হবে বলে জানিয়েছিল সরকার। কিন্তু, আপাতত সেই তারিখ পিছিয়ে গেল। দীপাবলির পর মাসুল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী প্রশাসন। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর সেটা ঘোষণা করে ইউপিআই নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এনপিসিআই।
এ দিন স্মার্টফোন ভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনে মাশুল চালুর দিনক্ষণ পিছনোর সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় ইউপিআই ও পরিষেবা স্টিয়ারিং কমিটি। উৎসবের মরসুমের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। যদিও দীপাবলির পর কোন তারিখ থেকে এমডিআর চালু হচ্ছে, তা জানায়নি এনপিসিআই। পরে এই সংক্রান্ত পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি হবে বলে স্পষ্ট করেছে তারা।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্মার্টফোন-ভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনে মাশুলের ঘোষণা হতেই দেশ জুড়ে পড়ে যায় শোরগোল। মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেটের ব্যয়ভার ক্রেতা না বিক্রেতা, কাকে বইতে হবে, তা নিয়েও আমজনতার মনে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। পরে অবশ্য বিষয়টি স্পষ্ট করে ইউপিআই নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এনপিসিআই।
কেন্দ্র জানিয়েছে, স্মার্টফোন-ভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনে কোনও বাড়তি খরচ হবে না গ্রাহকের। তবে, মাশুল গুনতে হবে ব্যবসায়ীদের। প্রসঙ্গত, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উৎসবের মরসুমে প্রতি বছরই চাঙ্গা থাকে ভারতের ঘরোয়া বাজার। আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, সেই কারণেই এমডিআর মারফত বেশি অর্থ কোষাগারে পেতে অক্টোবর থেকে এটি চালুর পরিকল্পনা ছিল সরকারের।
কিন্তু, মাশুলের ঘোষণা হতেই এই নিয়ে আপত্তি জানায় একাধিক বণিক সভা। তাদের যুক্তি, এতে চাপে পড়বে ব্যবসায়ী ও পেমেন্ট সংস্থা। তা ছাড়া, এমডিআরের জন্য ইউপিআইতে প্রযুক্তিগত আপডেটেরও প্রয়োজন রয়েছে। মাশুলের চালুর সময়সীমা পিছনোর নেপথ্যে এটাও অন্যতম বড় কারণ, হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
