জেলে খলিল মোল্লা বলেন, ‘সরকারি হিসাবে ২৫ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও তিনি পেয়েছেন ১৮-১৯ কেজি। তার অভিযোগ, লাল রঙের বালতি দিয়ে চাল মাপায় পাঁচ থেকে ছয় কেজি কম দেয়া হয়েছে।’ এ ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা চললেও রাজবাড়ীর পদ্মায় থামছে না মাছ শিকার। দিন-রাতে প্রকাশ্যেই ইলিশ ধরছেন শত শত জেলে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জীবিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন তারা। জেলেদের দাবি, অনেকেই বরাদ্দের চাল পাননি, আবার কেউ কেউ ২৫ কেজির বদলে পেয়েছেন ১৮-১৯ কেজি। ফলে জীবিকার তাগিদে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামছেন তারা।
সরজমিনে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর, বাহাদুরপুর, রতনদিয়া, মাহেন্দ্রপুর, জৌকুড়া, ধাওয়াপাড়া ঘাট, কালীতলা ও নয়নসুখ এবং গোয়ালন্দ উপজেলার রাখালগাছি, দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম, পিয়ার আলীর মোড় ও কলাবাগানসহ অন্তত অর্ধশত পয়েন্টে জেলেদের ইলিশ শিকার করতে দেখা গেছে।
ধাওয়াপাড়া ঘাট এলাকার জেলে সুমন হোসেন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময়ে কিছু জেলেকে প্রণোদনার চাল দেয়া হলেও প্রকৃত জেলেদের অনেকে তা পাননি। যারা পেয়েছেন, তাদেরও ওজনে কম দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
জেলে খলিল মোল্লা বলেন, ‘সরকারি হিসাবে ২৫ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও তিনি পেয়েছেন ১৮-১৯ কেজি। তার অভিযোগ, লাল রঙের বালতি দিয়ে চাল মাপায় পাঁচ থেকে ছয় কেজি কম দেয়া হয়েছে।’ এ ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রম করেছে ইউনিয়ন পরিষদ। যার তদারকির দায়িত্ব পালন করেছে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। চাল কম দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাসুদ রানা বলেন, ‘একজন ট্যাগ অফিসারের সামনে জেলেদের চাল দেয়া হয়েছে।’ তবে বালতি দিয়ে মাপার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ১০২। এর মধ্যে ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত ৬ হাজার ৪০২ জন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৫৯২ জনকে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।
জেলে হারুন মোল্লা বলেন, ‘সারা বছর রাজবাড়ীর পদ্মায় ইলিশ পাওয়া যায় না। ডিম ছাড়ার মৌসুমে ইলিশ এ নদীতে আসে বলে জেলেরা সারা বছর এ সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানলেও ইলিশ ধরার লোভ সামলাতে না পেরে জেল-জরিমানার ঝুঁকি নিয়েও অনেকে নদীতে নামছেন।’
রাজবাড়ীতে ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত জেলে প্রায় ছয় হাজার হলেও মৌসুমে নদীতে নামে অন্তত ২০ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে ভ্যানচালক ও মুদি দোকানিরাও রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিমত, পর্যাপ্ত প্রণোদনা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া ইলিশ শিকার বন্ধ করা কঠিন।
তবে তালিকাভুক্ত জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব উল হক। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাছ ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ইলিশ রক্ষায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে প্রায় এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে প্রায় ১০০ জেলেকে। উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ ইলিশ এতিমখানায় দেয়া হয়েছে।’
