বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজার শুভক্ষণে কার্তিকের নবান্নের দেশে দুর্গাপূজা কোনো সম্প্রদায়ের পূজা থাকে না, এই উৎসব এক সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, আমার এখনো মনে আছে ছোটবেলায় আমাদের বাড়ির পাশেই দুর্গাপূজার মেলা অনুষ্ঠিত হতো। এই মেলাকে ঘিরে যে কত আনন্দ, কত রঙিন বেলুন, সেই খেলনা পিস্তল, কত ধরনের মিষ্টান্ন- এটা আমার এখনো মনে পড়ে। সেই আনন্দের জন্য প্রতিবছর এই সময়টার জন্য আমরা অপেক্ষা করতাম যে কবে আসবে দুর্গাপূজা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যেকোনো উৎসবই কোনো সাম্প্রদায়িক ভেদরেখা, কোনো সীমানাকে আলাদা করে না। বরং প্রতিটি উৎসবই সব ভেদরেখাকে অতিক্রম করে একে অপরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধে সম্মিলিত করে, ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করে। এটাই হচ্ছে উৎসবের মর্মবাণী, এটাই উৎসবের মূল মন্ত্র।
তিনি বলেন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে আজকে এখানে দুর্গাপূজা শুভ উদ্বোধনে আমরা উপস্থিত হতে পেরেছি, এটাই হচ্ছে সম্প্রীতির আনন্দ।
তিনি আরো বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানে যেমন বলা হয়েছে- ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।’ একইভাবে প্রদীপের প্রতীকী উত্তাপ ও আলোর মতো আমাদের ভেতরের সব গ্লানি, ক্লেদ ও সংকীর্ণতা দূর করে আমরা সবাই এক মানবাত্মায় মিলিত হতে পারি। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান এই উৎসবে সবাই মিলে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, এটি কেবল তাদের একার উৎসব নয়, এর অংশীদার আমরা সবাই।
এ সময় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক মাস আগে থেকেই দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এবং এটিকে নিরাপদ রাখার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি দলকে নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি সরকারের প্রধান হিসেবে দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক যন্ত্রের প্রত্যেককে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে দেখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকেও কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে স্থানীয়ভাবে পূজা কমিটির সাথে যোগাযোগ রেখে উৎসবকে নিরাপদ রাখা যায়।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে রিজভি বলেন, পূজায় তিন দিনের ছুটির দাবি থাকলেও বর্তমান সরকার তা বাড়িয়ে পাঁচ দিন করেছে। প্রতিটি মন্দিরে সরকারি অনুদান হিসেবে চালের পরিমাণ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্দিরগুলোর জন্য প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা অনুদান এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের জন্য সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করেছেন তারেক রহমানের সরকার।
মন্দিরের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যেখানে ভক্তরা তাদের দেবতার উদ্দেশ্যে মন্ত্র উচ্চারণ করেন এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন, সেই পবিত্র স্থানগুলোতে যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতা না থাকে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো মূল্যে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও মন্দির নিরাপদ রাখতে প্রশাসন ও দলীয়ভাবে তারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন বলে জানান তিনি।
