আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রমশ বাড়তে জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল ফ্রান্সের মানুষ। কিন্তু দ্রুত তা সহিংস রূপ নেয়। একাধিক শহরে অভিজাত বিপনণি সংস্থার স্টোর ও সুপারমার্কেটে ভাঙচুর এবং লুট করা হয়েছে। ফরাসি সংবাদপত্র ‘লে প্যারিসিয়েন’-এর মতে, প্যারিস, মার্সেই, বোর্দো এবং লিলের মতো শহরগুলিতে মুখোশধারীদের বড় দল দোকানের জানালা ভেঙে জিনিসপত্র লুট করেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোর্দোতে একটি অ্যাপল স্টোরের পাশাপাশি লুই ভিতঁ-র দোকানগুলিতেও হামলা করা হয়েছে। লিলে-তে অ্যাপল আউটলেট লুট করা হয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘মারিটিমা’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্সেইতে উত্তেজিত জনতা একটি হার্মিস বুটিক ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় ফ্রান্সজুড়ে পুলিশ অন্তত ১,৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বিশেষ ভাষণ দেবেন স্থানীয় সময় রাত ৮টায়। তাঁর আগে সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন তিনি।
ফ্রান্স প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় সাড় পাঁচ লক্ষ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল। যদিও আয়োজকদের দাবি, সংখ্যাটি প্রায় আট লক্ষ। বিক্ষোভকারীরা একটি শ্রমিক ইউনিয়ন, ছাত্র সংগঠন এবং সমাজকর্মীদের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে সামাজিক অবিচারের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছিলেন তাঁরা। ফ্রান্সে গণবিক্ষোভ প্রায়শই শান্তিপূর্ণ ভাবে শুরু হলেও পরে তা হিংসার রূপ নেয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বিক্ষোভের এক দিনে দেশব্যাপী রেকর্ড প্রায় দু’হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার বেশ কয়েকটি শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা আগুন লাগিয়েছেন। সিটি হল-সহ সরকারি ভবনগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে। লিমোজে উনিশ শতকের সিটি হলটি আগুনে পুড়ে যায়, যার ফলে এর ছাদ ধসে পড়ে এবং ভবনটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। রবিবার প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক-এ বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী আবারও জড়ো হন। উপস্থিত ছিল পুলিশ। সেখানে ফের বিক্ষিপ্তভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।
বিভিন্ন শহরে লুটের বিষয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ এক্স-এ লিখেছেন, “প্রতিবাদ করার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু সহিংসতার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ও সম্মিলিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা মৌলিক অধিকার নয়।”
https://x.com/WarMonltor/status/2111717681497776415
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই হিংসার ঘটনায় ম্যাক্রোঁকে চেপে ধরতে চাইছে বিরোধীরা। কট্টর ডানপন্থী নেত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মেরিন লে পেন, প্যারিসের মিছিলে যোগ দেওয়া তাঁর কট্টর বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী জঁ-লুক মেলঁশোঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন। লে পেন এক্স-এ লিখেছেন, “লুটপাট, ভাঙচুর, ধ্বংসযজ্ঞ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর হামলা: দাঙ্গাকারীরা আবারও ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভকে নষ্ট করে দিয়েছে।” তাঁর সহকর্মী জর্ডান বারদেলা, এক্স-এ লিখেছেন, “যদি ফরাসিদের নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব।”
অন্যদিকে, মেলঁশোঁ প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নুর বিরুদ্ধে ‘আগুন নিয়ে খেলার’ অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “অবমাননার উপর ভরসা করে আপনি শুধু সকল যুবক ও শ্রমিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করতে সফল হয়েছেন।” মেলঁশোঁ জোর দিয়ে বলেছেন, “যাঁরা আমাদের সংগ্রামে সঙ্গী, লুটপাট বা ধ্বংসযজ্ঞে তাদের কোনও ভূমিকা নেই।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সের হিংসা সম্পর্কে পোস্ট করেছেন। এর জন্য তিনি অভিবাসনকে দায়ী করেছেন। তিনি লিখেছেন, “খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আপনাদের সীমান্ত বন্ধ করুন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুন!”
ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এই হিংসার সঙ্গে অভিবাসীদের কোনও যোগসূত্র খুঁজে পায়নি। এই হিংসার কিছু অংশের জন্য ‘উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী’ ও লুটপাটে যোগ দেওয়া অন্যান্য ব্যক্তিদের দায়ী করেছে।
