Published on
:
2 min read
হরনাথ চক্রবর্তী, স্বপন সাহা, প্রভাত রায়ের পরে মৌলিক গল্পের হাত ধরে বাণিজ্যিক বাংলা ছবির ধারায় নিজস্ব জায়গা করে নেওয়ার দাবি রাখে ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’। চেনা ছক মেনে চলার বদলে গল্পের উপর ভরসা রাখার যে চেষ্টা প্রথম ছবিতে ছিল, ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির দ্বিতীয় পর্বেও তার রেশ রয়েছে।
প্রথম ছবিতে বিক্রম প্রামাণিককে (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) দেখা গিয়েছিল জেলের অন্ধকারে। দ্বিতীয় পর্বে সময়ের চাকা ঘুরেছে। ২০১৫ থেকে ২০১৯— এই সময়পর্বে বিক্রমের জীবনে এসেছে আমূল বদল। আইন নিয়ে পড়াশোনা করে সে এখন জেলের মুহুরি। বিক্রম-ঝিমলির(কৌশানী) জীবনে এসেছে সন্তানও। ২৭টা ডাকাতির অতীতকে পিছনে ফেলে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে জীবন কাটাতেই ব্যস্ত। কিন্তু পাণ্ডবগড় থানার আইসি অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (যিশু সেনগুপ্ত) সীমাহীন দুর্নীতি ও লোভের কারণে বিক্রমের জীবনে আবার ঝড় ওঠে। পরিস্থিতির চাপে পুরোনো পথেই ফিরতে হয় তাকে। এই প্রত্যাবর্তনের গল্পই ছবিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।
নিঃসন্দেহে ছবির তুরুপের তাস অভিনেতা শিবপ্রসাদ। দ্বিধাহীন ভাবে বলা যায় বিক্রমের চরিত্রে শিবপ্রসাদের অভিনয়ই ছবির আসল অস্ত্র। চরিত্রের প্রতিটি অনুভূতি, টানাপড়েন, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন তিনি। শিবপ্রসাদের অভিনয় এতটাই শক্তিশালী, যে তার আড়ালে ছবির বেশ কিছু খামতি সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। অভিনেতা শিবপ্রসাদকে আরও নানা ভাবে ব্যবহার করা গেলে, আখেরে বাংলা ছবিরই লাভ হবে। তাই নিজের প্রযোজনা সংস্থার বাইরেও অভিনয় করার কথা ভাবতে পারেন তিনি।
ঝিমলির চরিত্রে কৌশানী মুখোপাধ্যায় যথাযথ। চরিত্রটির প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টায় খামতি নেই, যা প্রশংসার দাবি রাখে। তবে প্রথম ‘বহুরূপী’তে তাঁকে আরও সাবলীল ও স্বতঃস্ফূর্ত লেগেছিল। ঝিমলির মতো শক্তিশালী একটি চরিত্রের আরও নানা দিক তুলে ধরার সুযোগ ছিল। সেই জায়গায় চিত্রনাট্য আরও কিছুটা সহযোগিতা করলে কৌশানীর অভিনয় হয়তো অন্য মাত্রা পেত। অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রে যিশু সেনগুপ্ত বরাবরের মতোই স্বাভাবিক। অভিনয়ে বাড়তি নাটকীয়তার আশ্রয় না নিয়েও, কী ভাবে চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হয়, তা তিনি জানেন। অয়নের স্ত্রী রেশমির চরিত্রে সোহিনী সরকারও আলাদা করে নজর কাড়েন।
ছবির প্রথমার্ধ খানিকটা দীর্ঘ এবং শ্লথ। গল্পের ভিত তৈরি করতে গিয়ে বেশ কিছুটা সময় ব্যয় হয়েছে। যাবতীয় উত্তেজনা যেন জমিয়ে রাখা হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধের জন্য। ফলে পরের অংশে গতি এলেও, দুই অর্ধের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে। সম্পাদনায় ছবির দৈর্ঘ্য কিছুটা কমানো গেলে আখ্যান আরও টানটান হতে পারত। তাতে গল্পের কোনও ক্ষতি হতো বলে মনে হয় না। ছবির গানগুলি মন্দ নয়। তবে সিনেমার মূল আকর্ষণ গল্পের মোড় এবং চরিত্রগুলির টানাপড়েন।
Ei samay
সব শেষে রয়েছে বড় চমক। সেই চমক এই ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির আগামী পর্ব নিয়ে কৌতূহলও বাড়িয়ে দেয়। তা হলে কি আগামী পুজোয় আরও বড় পরিসরে রহস্যের জাল বুনতে চলেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-নন্দিতা রায়? আপাতত উত্তর অজানা। তবে ‘বহুরূপী’-র দুনিয়ায় পরের অধ্যায়ের দরজা যে খোলা থাকল, তা বলাই যায়। বাকিটা ক্রমশ প্রকাশ্য।
