১২ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৬ মিনিট আগে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
একসময় ওয়ানডে সংস্করণে জিম্বাবুয়ে মানেই যেন ছিল বাংলাদেশের নিশ্চিত জয়ের সমীকরণ। কিন্তু পরিসংখ্যানের সেই পুরোনো হিসাব-নিকাশ এখন পুরোপুরি অতীত। মাঠের পারফরম্যান্সে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের ক্রমাগত চাপে ফেলে সেই 'সহজ শিকার' জিম্বাবুয়েই এখন টাইগারদের জন্য দুশ্চিন্তার নাম হয়ে উঠেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। এই জয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গত দশকের বেশিরভাগ সময় ধরে বাংলাদেশের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকা এই মুখোমুখি লড়াইয়ে পরিস্থিতি এখন বেশ বদলে গেছে।
ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে জয়ের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ এখনও অনেক এগিয়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের থামানোর পথ ঠিকই খুঁজে নিচ্ছে জিম্বাবুয়ে। ২০২২ সালের সিরিজ থেকে শুরু করে সবশেষ গত শনিবারের আবুধাবি ম্যাচসহ দুই দলের শেষ সাত ওয়ানডেতে পাঁচটিতেই জিতেছে জিম্বাবুয়ে।
দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি হওয়ার আগের ইতিহাস বলছে, ৮৪ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৫২টিতে, আর জিম্বাবুয়ের জয় ৩২টিতে।
ছবি: এসিবি
তবে ২০২২ সালে হারারেতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থান ভেঙে দেয় জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকেই মূলত চিত্রপট বদলাতে শুরু করে। সেবার প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ৩০৩ রান করা সত্ত্বেও জয় পায়নি, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে সিরিজ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা। শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
সেই ফলাফলই বার্তা দিয়েছিল যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবস্থান নিচের দিকে হলেও ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের দুর্বলতাগুলো কাজে লাগাতে প্রস্তুত জিম্বাবুয়ে। একসময় ৫০ ওভারের যে খেলাটি বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্ত জায়গা ছিল, গত পাঁচ বছরে সেটিই যেন তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৬ সালে নিজেদের মাটিতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় জিম্বাবুয়ে। জুলাইয়ের সেই সিরিজে প্রথম দুই ওয়ানডেতে যথাক্রমে ২৫ ও ১৩ রানে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয় তারা। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জিতলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে জিম্বাবুয়ে নিজেদের নতুন শক্তির জানান দেয়।
শনিবারের ম্যাচটিতেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিম্বাবুয়ের সেই বাড়তি আত্মবিশ্বাসের ছবি ফুটে উঠেছে। আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বল হাতে দারুণ সূচনা করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। তার তোপে ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও তাফাদজোয়া সিগাকে হারিয়ে মাত্র ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছিল জিম্বাবুয়ে, তা-ও আবার শুরুর সাত ওভারের মধ্যে।
তবে সেই ধস সামলে চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে খেলায় ফেরান দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্রেইগ আরভিন আর ব্রেন্ডন টেইলর। ১০৬ বলে ৯৩ এবং টেইলর ৮১ রান করলে বিপর্যয় কাটিয়ে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের ভালো পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে।
জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস কখনোই গতি পায়নি। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৩৮ বলে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করলেও ব্র্যাড ইভান্সের ৪৫ রানে ৪ উইকেটের তোপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয়ে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হার মানে টাইগাররা।
অথচ বছরের পর বছর ধরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আধিপত্য বজায় রেখেছিল বাংলাদেশ। ২০১৪ ও ২০১৫ সালের টানা সিরিজ জয়ের পর ২০১৮ ও ২০২০ সালেও প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল লাল-সবুজের দল। এমনকি ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েও তিনটি ওয়ানডেই জিতেছিল বাংলাদেশ।
তবে সেই গল্প এখন অতীত। জিম্বাবুয়ে কেবল শেষ দুটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজই জেতেনি, আরব আমিরাতের মাটিতে তাদের এই জয় প্রমাণ করে যে— নিজেদের চেনা পরিবেশের বাইরে গিয়েও এখন বাংলাদেশকে হারিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে তারা।
