Published on
:
2 min read
এই সময়, গুসকরা: কুনুর নদীতে মাছের মড়কের তদন্তে নামল প্রশাসন। খতিয়ে দেখা হচ্ছে নদীর জল কালচে হয়ে যাওয়ার ও জল থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণ। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে সাধারণ মানুষকে আপাতত কুনুরের মাছ না–খেতে বলেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। স্নান ও বাসনপত্র ধোয়া–সহ দৈনন্দিন কাজে নদীর জল ব্যবহার না–করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে।
বৃহস্পতিবার সকালে এই নদীতে রাশি রাশি মরা মাছ ভেসে উঠেছিল। শুক্রবার মৎস্য ও বন দপ্তর এবং ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা গুসকরা ও সংলগ্ন বাবুরবাঁধ এলাকায় নদীর অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। সংগ্রহ করা হয় নদীর জল ও মাছের নমুনা। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট না–আসা পর্যন্ত মাছের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছু বলতে চাননি তাঁরা।
পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার পাশ দিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে কুনুর নদী। এ দিন মৎস্য দপ্তরের সহ-অধিকর্তা শুভব্রত চট্টোপাধ্যায়, বন দপ্তরের জেলাস্তরের আধিকারিক মলয়কুমার মাল এবং আউশগ্রাম-১ ব্লকের বিডিও বিমান কর নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও তাঁরা কথা বলেন।
মৎস্য দপ্তর সূত্রে খবর, নদীর জল ও মাছের সংগৃহীত নমুনা নিজস্ব পরীক্ষাগারের পাশাপাশি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের পরীক্ষাগারেও পাঠানো হবে। মৎস্য দপ্তরের সহ-অধিকর্তা শুভব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে না–আসা পর্যন্ত মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয়।’ উল্লেখ্য, দু–তিন দিন ধরেই নদীর বিস্তীর্ণ অংশে ছোট-বড় মাছ মরে ভেসে উঠছিল। বৃহস্পতিবার তা ব্যাপক আকার নেয়। অনেকে মরা মাছ বাড়িতেও নিয়ে যান। এই মরা মাছ খাওয়া একেবারেই ঠিক হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আউশগ্রাম-কাঁকসা সীমানার একটি ইথানল কারখানার বর্জ্য নদীতে মেশার কারণেই জলে দূষণ ছড়িয়েছে। অবশ্য এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ ও মনিরুল শেখরা জানিয়েছেন, গুসকরা শহর ও সংলগ্ন গ্রামগুলির বহু পরিবার স্নান, বাসন ধোয়া এবং গবাদি পশুর জলপানের জন্য এই নদীর উপরে নির্ভরশীল। এর জল দূষিত হয়ে যাওয়ায় তাঁরা খুবই উদ্বিগ্ন। তাঁদের অভিযোগ, এর আগেও নদীতে দূষণের কারণে মাছের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে উদাসীন থেকেছে। নদীর দূষণের উৎস চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
