হজ ও বিয়ে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি বিধান। এর মধ্যে সামর্থবান ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ। এর বিপরীতে স্বাভাবিক অবস্থায় সামর্থের ভিত্তিতে বিয়ে করা সুন্নত এবং বিয়ে না করলে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তীব্রতর হলে বিয়ে করা ওয়াজিব।
পবিত্র কোরআনে হজ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)
এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর মকবুল হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’ (বুখারি, হাদিস: ২০৬)
স্থাবর সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রি করে কেউ যদি হজ আদায় করতে সক্ষম হয় এবং হজ থেকে ফিরে এসে বাকি সম্পত্তি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, তাহলে তার ওপর হজ ফরজ।
আরও পড়ুন
কোনো অবিবাহিত ব্যক্তি যদি হজের জন্য টাকা জমান এবং এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছান যে তার জন্য বিয়ে করাও বেশ প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, হজ নাকি বিয়ে, কোনটি আগে করবেন? তাহলে তার করণীয় কী?
যেমন, একজন জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছেন, ‘আমার কাছে হজে যাওয়ার মতো টাকা আছে। কিন্তু আমার এখন বিয়ে করার প্রয়োজন। এ টাকা দিয়ে হজ করলে বিয়ের খরচের জন্য টাকা থাকবে না। আর বিয়ে করলে হজ করা যাবে না। এখন এক্ষেত্রে আমার জন্য হজ করা কি জরুরি?’
এক্ষেত্রে ইসলামী ফেকাহবিদদের মতামত হলো, হজের টাকা জমা দেওয়া ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার শেষ সময়ের আগেই যদি আপনি বিয়ে করে ফেলেন এবং বিয়েতে ওই টাকা খরচ হয়ে যায় তবে আপনার উপর হজ ফরজ হবে না। কিন্তু হজের প্রস্তুতি গ্রহণের শেষ সময় পর্যন্ত যদি ওই টাকা খরচ না হয় তবে ওই টাকার কারণে আপনার উপর হজ ফরজ হয়ে যাবে। সূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া
এনটি
