একই ঘটনায় আহত নিহতের স্ত্রী ও ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
Published : 20 Oct 2026, 07:39 PM
Updated : 20 Oct 2026, 07:39 PM
পূজার ছুটিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভায়রার বাড়ি যাচ্ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল বাবা ও মেয়ের। এতে আহত হয়েছেন নিহতের স্ত্রী ও আরেক সন্তান।
মঙ্গলবার ভোররাতে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বাবা-মেয়েসহ ১২ জনের প্রাণ গেছে; আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন।
নিহতদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম (৪০) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জাগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। নিহত শহিদুলের মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৮) দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
আহত রুবিনা আক্তার পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। আহত আরেক ছেলে (১২) সুবিদখালী রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
শহিদুলের বড় ভাই ফারুক হোসেন বলেন, পটুয়াখালী থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পূজার ছুটি কাটাতে শহিদুল তার স্ত্রী রুবিনার ছোট বোনের বাড়ি রাজশাহীতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। বাড়ির আঙিনায় কবর খোঁড়ার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, শহিদুলের স্ত্রী রুবিনা বেগম ও তার বড় ছেলে লাবিব আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ফারুক হোসেন বলেন, “রাজশাহীতে ভায়রার বাড়িতে যাওয়ার কথা তাই শহিদুল মাগুরায় স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সোমবার বিকাল ৪টায় বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের একটি বাসে রুবিনা বেগম তার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে মাগুরার উদ্দেশে রওনা হন।
“সেখানে পৌঁছে শহিদুল ওই বাসেই উঠে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। পথে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোরের বনপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে তাদের বহনকারী বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শহিদুল ও তার মেয়ে মারা যান।”
পূজার ছুটির আনন্দ একটি দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল বলে আক্ষেপ করেন ফারুক হোসেন।
