পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি, সাইবার হামলার ঝুঁকিতে দেশ
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে ‘পিএইচপি২শেল’ নামে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা পরিচয় যাচাই ছাড়াই সার্ভারে ক্ষতিকর কোড চালানো, গোপন তথ্য চুরি ও ওয়েবসাইট অচল করে দিতে পারে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট। সংস্থাটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে পিএইচপি ব্যবহৃত সার্ভার শনাক্ত, ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণ হালনাগাদ এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ঝুঁকিতে থাকতে পারে। তাৎক্ষণিক হালনাগাদ সম্ভব না হলে সার্ভারের সংযোগ সীমিত রাখা এবং লগ পরীক্ষা করে অনুপ্রবেশের চিহ্ন খুঁজতে হবে। শুধু ওয়েবসাইটের অ্যাপ্লিকেশন নয়, সার্ভারের মূল পিএইচপি রানটাইমও হালনাগাদ ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা জরুরি।
সার্টের পরামর্শ অনুযায়ী, সমস্যাটি পিএইচপি’র মেমোরি ব্যবস্থাপনায়। মেমোরি শেষ হয়ে গেলে বা মেমোরি মুক্ত হওয়ার পরও পুরোনো রিকোয়েস্টের ডেটা থেকে যাওয়ার সুযোগে আক্রমণকারী বিশেষভাবে তৈরি এইচটিটিপি রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।
এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পিএইচপি-এফপিএম এবং অ্যাপাচির মড_পিএইচপি ব্যবহারকারীরা। এছাড়া পিএইচপি-সিজিআই, ফ্র্যাঙ্কেনপিএইচপি, লাইটস্পিড, ডকার কন্টেইনার এবং শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে চলা সরকারি পোর্টাল, ব্যাংক, ই-কমার্স, ওয়ার্ডপ্রেস ও লারাভেল ভিত্তিক সব ওয়েবসাইটই ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
সতর্কতায় বলা হয়, সফল আক্রমণ হলে পুরো সার্ভারের দখল চলে যাওয়া, ডেটা ও ফাইল চুরি, ডাটাবেসের পাসওয়ার্ড ও এপিআই কি ফাঁস এবং ওয়েবসাইট অচল হয়ে যাওয়ার মতো বড় ক্ষতি হতে পারে।
সমাধান হিসেবে অবিলম্বে পিএইচপি হালনাগাদ করতে বলেছে সার্ট। নিরাপদ সংস্করণগুলো হলো- ৮.৫.১২, ৮.৪.২৭, ৮.৩.৩৬ এবং ৮.২.৩৫। শুধু ফ্রেমওয়ার্ক নয়, সার্ভারের মূল পিএইচপি রানটাইম হালনাগাদ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, যারা এখনই প্যাচ দিতে পারবেন না, তাদের জন্য সাময়িকভাবে সার্ভার ভিপিএন এর পেছনে রাখা, আইপিভিত্তিক অনুমোদন তালিকা করা এবং লগ পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সার্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, হালনাগাদ করাই একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
এসএন/
আরও পড়ুন
ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করল এআই
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->প্রশিক্ষণ কাজ সম্পন্ন করতে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির অভিযোগ উঠেছে একটি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) মডেলের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষামূলক মডেলটি কাজের প্রয়োজনে ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে অর্থ সরিয়ে নেয়।
ঘটনাটি ঘটেছে গত জুনে। তবে সম্প্রতি এটি প্রকাশ্যে আনা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মডেলটির কোড নাম ‘জিপিটি-৫.৬ সল’। পরীক্ষামূলক ইথেরিয়াম টেস্ট নেটওয়ার্কে কাজ করার সময় এই ঘটনা ঘটে।
নির্ধারিত কাজটির জন্য একটি নেটওয়ার্ক ফি দিতে হতো। কিন্তু ওপেনএআই মডেলটিকে কোনো অর্থ বা তহবিল সরবরাহ করেনি। এর ফলে মডেলটি নিজে একটি পথ বের করে নেয়। সেটি শত শত ক্রিপ্টো ওয়ালেট ঠিকানা খুঁজে বের করে। এর পর অ্যাকাউন্টগুলো থেকে অর্থ চুরি করে।
টাকা নেওয়ার আগে মডেলটি নিজে নিজে বিচার করে দেখেছে কাজটি নৈতিকভাবে সঠিক কি না। পরে সে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে অ্যাকাউন্টগুলো পরিত্যক্ত। তাই এগুলো ব্যবহার করায় কোনো সমস্যা নেই। ওপেনএআই জানিয়েছে, মডেলটিকে কোনো তহবিল খরচ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটি এক প্রতিবেদনে জানায়, মডেলটি ব্যবহারকারীর অনুমতির তোয়াক্কা না করে নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করেছে। তবে যে টেস্ট নেটওয়ার্কে এই লেনদেন হয়েছে তার কোনো বাস্তব আর্থিক মূল্য নেই। কারণ এটি মূল নেটওয়ার্ক থেকে আলাদা।
অনুমতি ছাড়া কাজটি করার পরও মডেলটি ডেভেলপারদের কাছে তা গোপন করে। কীভাবে সে এই অর্থ পরিশোধ করেছে তা কাউকে জানায়নি। এই ঘটনার পর ওপেনএআই মডেলের ইন্টারনেট ব্যবহারে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করেছে।
স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেম মানুষের নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করায় উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে অন্য মডেল হ্যাকিংয়ের ঘটনাও সামনে এসেছে। গুগলের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে।
এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি শত শত বিজ্ঞানী একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তারা উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এআইয়ের গডফাদার হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টন। তিনি সব সময় এই প্রযুক্তির ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে সমালোচকরা মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও গভীর গবেষণা প্রয়োজন। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অবকাঠামো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আরও পড়ুন
এআই এজেন্ট নিয়ে সতর্ক মাইক্রোসফট বার্তা
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এজেন্টের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই ধরনের স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই মডেলগুলো প্রতিষ্ঠানের জন্য অভ্যন্তরীণ হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। এসব প্রযুক্তির ওপর অন্ধবিশ্বাস না রেখে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটি এআই প্রযুক্তি থেকে তৈরি ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন কিছু নিরাপত্তা ফিচার উন্মোচনের কথা জানায়। তাদের বিশেষ ফিচার ‘গার্ডিয়ান এজেন্টস’ মূলত প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত অন্যান্য এআই এজেন্টের নজরদারিতে কাজ করবে। এটি তাদের বিশেষ উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট পারসেপশন’-এর একটি অংশ।
মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলা সতর্ক করে বলেছেন, যে এআই এজেন্টদের ওপর বিশ্বাস করে কাজ দেওয়া হচ্ছে, তারা নিজেই প্রতিষ্ঠানের শত্রু হয়ে উঠতে পারে। অনেক সময় এগুলো কোনো অসাধু কর্মচারীর মতো ক্ষতিকর আচরণ করতে শুরু করে।
সত্য নাদেলা আরও উল্লেখ করেন, এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও তাদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা ঠিক হবে না। এআই এজেন্টদের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে আলাদা একটি তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা এআইয়ের হাতে ছেড়ে দিলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
মাইক্রোসফটের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হাইয়েত গালটও একই মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রচলিত শক্তিশালী এআই মডেলগুলোকে কোনোভাবে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায় না। এগুলো ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে বানানো না হলেও এদের আচরণ বেশ অনিয়মিত এবং অপ্রত্যাাশিত। এসব মডেল মূলত কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের পূর্ণ সুযোগ পেয়ে থাকে।
এই ঝুঁকি কমাতে মাইক্রোসফট ‘ডিফেন্ডার’ সফটওয়্যারে বিশেষ প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। এটি কর্মীদের ব্যবহৃত ৬০ ধরনের এআই এজেন্ট শনাক্ত করতে পারবে। এসব ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে এআইয়ের ক্ষমতা সীমিত করবে এবং মানুষের অনুমতির বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করবে।
এ ছাড়া এনভিডিয়ার নতুন ওপেন এজেন্ট সেফটি প্ল্যাটফর্মের অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট কাজ করছে। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্বাভাবিক আচরণ করা এআই এজেন্টদের সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০টির বেশি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এখন এই নিরাপদ এআই ব্যবস্থা তৈরিতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
সনির নতুন ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন ইসিএম-ডব্লিউ৫
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ভিডিও নির্মাতাদের জন্য নতুন ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন কিট ‘ইসিএম-ডব্লিউ৫’ বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সনি। ডিজেআইয়ের মাইক্রোফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে মূলত এই ডিভাইস বাজারে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ মার্কিন ডলার। সনির তৈরি নতুন এই মাইক্রোফোন কিটে রয়েছে ট্রান্সমিটার ও রিসিভার। এটি সনির ক্যামেরা কিংবা ইউএসবি-সি সংযোগের মাধ্যমে অন্য যেকোনো উপযোগী ডিভাইসে সরাসরি অডিও রেকর্ড করতে পারে। প্রায় ৫০০ মিটার দূরত্ব থেকেও ডিভাইসটি ৯৬ কিলোহার্টজ স্যাম্পলিং রেটে শব্দ ধারণ করতে সক্ষম।
সনির আলফা সিরিজের ক্যামেরার সঙ্গে ডিভাইসটি সহজেই ব্যবহার করা যাবে। ক্যামেরার ‘মাল্টি ইন্টারফেস শু’ ব্যবহার করে এটি সরাসরি বিদ্যুৎ ও তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধা দেয়। সাধারণ কিটে একটি রিসিভার ও দুটি ট্রান্সমিটার থাকে। তবে প্রতিটি অতিরিক্ত ট্রান্সমিটারের জন্য ১২০ ডলার খরচ করে আরও ট্রান্সমিটার কেনা যাবে। এতে এক সঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি পৃথক অডিও ট্র্যাকে শব্দ রেকর্ড করা সম্ভব।
প্রতিটি ট্রান্সমিটারে ৬৪ জিবি মেমোরি রয়েছে। ফলে মূল রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি এতে অডিওর ব্যাকআপও রাখা যায়। এ ছাড়া ৩২-বিট ফ্লোট রেকর্ডিং সুবিধা থাকায় সাউন্ড গেইন আগে থেকে নির্ধারণ না করেও খুব নিচু বা তীক্ষ্ণ শব্দ রেকর্ড করা যায়।
ডিজেআইয়ের মাইক্রোফোনের তুলনায় সনির এই ডিভাইসের অন্যতম সুবিধা হলো, এতে অন্য মাইক্রোফোন যুক্ত করা যায়। সম্প্রচারকর্মীদের জন্য এ সুবিধা বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে। ট্রান্সমিটারগুলোতে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। শার্ট বা অন্য পোশাকে সহজে আটকে রাখার জন্য এতে রয়েছে ম্যাগনেটিক ব্যাকপ্লেট।
সনির ক্যামেরা ছাড়াও ইউএসবি-সি অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে যুক্ত করে এটি ব্যবহার করা যাবে। রিসিভারের টাচস্ক্রিন থেকে বিভিন্ন সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পাশাপাশি ব্লুটুথ এলই প্রযুক্তির মাধ্যমে হেডফোনে তাৎক্ষণিক অডিও শোনার সুযোগ রয়েছে।
ডিজেআইয়ের তুলনামূলক সাশ্রয়ী মাইক্রোফোনের বিপরীতে ৪০০ ডলারের এই সনি কিটটি মূলত সনির ক্যামেরা ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি। এটি অডিও রেকর্ডিংয়ের কাজ আরও সহজ করতে পারে। আগামী নভেম্বর থেকে এর বিক্রি শুরু হওয়ার কথা।
আরও পড়ুন
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন ‘আইফোন ডুও’র সাফল্যের নেপথ্যে চীন
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আইফোন ডুও
-->অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’-এর সাফল্যের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করছে চীন— বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী চেয়ারম্যান টিম কুক। তিনি জানান, নতুন এই ডিভাইসটি বিশেষভাবে চীনেই তৈরি করা হচ্ছে এবং এর অ্যাপ উন্নয়নে চীনা ডেভেলপাররা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না ডেইলিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে টিম কুক এসব কথা বলেন। অ্যাপল প্রধানের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীন একটি বড় বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক কার্যক্রমের অন্যতম উদ্ভাবনী ও প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র।
অ্যাপলের অন্যান্য সাধারণ মডেলের তুলনায় ফোল্ডেবল স্মার্টফোন আইফোন ডুও প্রস্তুত করা বহুগুণ বেশি জটিল ও কঠিন। এর জন্য প্রয়োজন চরম সূক্ষ্মতা ও উচ্চমানের ডিজাইন সক্ষমতা, যা চীনের সরবরাহকারীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে সম্ভব হচ্ছে।
চীন সফরের অংশ হিসেবে টিম কুক কুয়াংচৌ, বেইজিং ও শাংহাই সফর করেন। শাংহাইয়ের এক ফোরামে তিনি জানান, চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অ্যাপলের সরবরাহ শৃঙ্খলে অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলছে।
এই সফরের আরও একটি বড় খবর হলো, চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবার ‘ছুয়েন’ লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল সংবলিত ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ চীনে ব্যবহারের সরকারি অনুমোদন পেয়েছে। চলতি অক্টোবরের শেষভাগেই এর একটি টেস্ট ভার্সন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেইজিংয়ে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনথাওর সাথে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে টিম কুক জানান, চীনে অ্যাপল তাদের ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত করবে। শুধুমাত্র অ্যাপল নয়, আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন সাউথ চায়না-র সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, চীনে সক্রিয় ৭৫ শতাংশ মার্কিন প্রতিষ্ঠান চলতি বছরেই দেশটিতে পুনরায় বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
সূত্র: সিএমজি
