চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন আহাদ আলী নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃত আহাদ উপজেলার উথলী ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সাবেক সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত মনোনীত ইউপি সদস্য।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উথলী ইউনিয়ন শাখার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মনোনীত ইউপি সদস্য মো. আহাদ আলী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এ কারণে ১২ অক্টোবর থেকে তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে দলীয় বিষয়ে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার জন্য জামায়াতের নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উথলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আরিফুল ইসলাম বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উথলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দলীয়ভাবে মাওলানা মহিউদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আহাদ আলী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এ কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে বহিষ্কারের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন আহাদ আলী। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমি একজন ইউপি সদস্য। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। প্রায় তিন মাস আগে সেনেরহুদা গ্রামে মানুষের সঙ্গে দেখা করতে গেলে আমার ওপর ঈর্ষান্বিত হয়ে দলীয় লোকজন হামলা করেন। বিষয়টি দলীয় নেতারা জানার পরও আজ পর্যন্ত কেউ আমার খোঁজ নেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, এ চিন্তা করে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে বিষয়টি চেপে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু হামলার ঘটনায় নেতারা কোনো বিচার না করায় ক্ষোভ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছি।’
বহিষ্কারের বিষয়ে আহাদ আলী বলেন, ‘আমাকে কোনো নোটিশ না দিয়েই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাব।’
জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী তার আদর্শ, গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ড সমুন্নত রাখতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িয়ে পড়লে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ইউপি সদস্য আহাদ আলীকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
