স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে গরিয়াবুনিয়া ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি জমিতে ঘর নির্মাণ করেন উত্তর রানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এ সময় তাঁর সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ জন লোক ছিলেন। অন্যদিকে, জমিটি প্রায় ৫০ বছর ধরে মোকলেছুর রহমানের পরিবারের ভোগদখলে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই জমিতে মোকলেছুর রহমানের মা মরহুমা জয়নব বিবির কবর রয়েছে বলেও তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়।
জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগে সংবাদ সম্মেলন এবং এর প্রতিবাদে পাল্টা বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। গত ১৮ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে নির্মিত ঘরের পাশে ফারুক হোসেন ও মরহুমা জয়নব বিবির নামসংবলিত দুটি সাইনবোর্ড দেখা যায়।
জমিতে ঘর নির্মাণের বিষয়ে জানতে মোকলেছুর রহমান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে গেলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় সোবহান মোল্লাও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের স্ত্রী তাজনিপা আক্তার ও মোকলেছুর রহমানের স্ত্রী ময়না বেগমের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
এরপর আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও তাঁর স্ত্রী তাজনিপা আক্তার অভিযোগ করেন, ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোকলেছুর রহমান তাঁদের ছেলে এমএম আনকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল মামলা করা হয়। মামলায় মোকলেছুর রহমানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর অপূর্ব কান্তি মন্ডল।
তবে শিশুটিকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শ্রেণিশিক্ষক। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এমএম আন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল। পরে তার মা তাজনিপা আক্তার অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যান। তাজনিপা আক্তারও গরিয়াবুনিয়া ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
অন্যদিকে, মামলার আসামি মোকলেছুর রহমান শিশুটিকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে তাঁকে হয়রানি করতে মামলা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্য জানতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীরা কয়েকজনের বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বুলবুল বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। নিজের সম্পত্তির দখল বুঝে নিতে চান বলেও তিনি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমিটি নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। জমিটি এজমালি সম্পত্তি এবং এর দুটি অংশ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল নির্দিষ্ট দাগের জমির দখল নিজের বলে দাবি করছেন।
এদিকে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও তাঁর স্ত্রী তাজনিপা আক্তারের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মোকলেছুর রহমান। অভিযোগে তাঁদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন।
জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি এবং শিশুকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
The post বেতাগীতে জমি বিরোধে শিশুকে মারধরের অভিযোগ, মামলায় পাল্টাপাল্টি দাবি appeared first on ভোরের চেতনা.
