ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে এখন পর্যন্ত দুই দলের পারফরম্যান্সের ব্যবধানই বুধবারের শেষ লিগ ম্যাচে আফগানিস্তানকে এগিয়ে রাখছে। আফগানিস্তান বড় জয় পেয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের কপালে জুটেছে বড় পরাজয়। তবে মজার বিষয় হলো, ওয়ানডে ক্রিকেটে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের জয়ের হিসাব এখন ১১-১১। যদিও মাঠের পারফরম্যান্সে আফগানিস্তানকেই এগিয়ে থাকা দল মনে হচ্ছে।
ফাইনালে উঠতে হলে শুধু আফগানিস্তানকে হারালেই চলবে না, বাংলাদেশকে জিততে হবে বড় ব্যবধানে। প্রথমে ব্যাটিং করলে সম্ভবত অন্তত ৪০ রানের ব্যবধানে জিততে হবে। আর পরে ব্যাটিং করলে লক্ষ্য তাড়া করতে হবে নির্ধারিত ওভারের চেয়ে কম সময়ে। এই সমীকরণ মেলাতে পারলে তবেই ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের। অন্যদিকে, নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের অপেক্ষায় থাকবে জিম্বাবুয়ে।
সোমবার আফগানিস্তান ১৫৮ রানে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়েছে। সেদিকুল্লাহ আতাল পেয়েছেন একদিনের ক্রিকেটে নিজের তৃতীয় শতকের দেখা। অন্যদিকে, ইব্রাহিম জাদরান নিজের তুলনামূলক ছোট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো নব্বইয়ের ঘরে আউট হয়েছেন। পরে মাঝের ওভারগুলোতে নিজের চেনা ছন্দে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং ধসিয়ে দেন রশিদ খান। চার উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। ফজলহক ফারুকি ও এএম গজনফরও বল হাতে ভালো করেছেন। সব মিলিয়ে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দাপুটে জয় পেয়েছে আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ছবিটা একেবারেই আলাদা। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারে দলটি। প্রথম তিন উইকেট নেওয়ার পর বোলাররা আর সময়মতো সাফল্য এনে দিতে পারেননি। ব্যাটসম্যানরাও ভালো শুরুর সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। তাসকিন আহমেদ স্বীকার করেছেন, দলের মধ্যে খেলার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘাটতি ছিল। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও বলেছেন, পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে দল পিছিয়ে ছিল।
দলের অভিজ্ঞ দুই ব্যক্তির এমন বক্তব্য বাংলাদেশের একদিনের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মাত্রাই তুলে ধরছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা থাকলেও একটি ম্যাচে ভালো খেললেই যে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে, তা নয়। অন্যদিকে, আফগানিস্তানকে দেখে মনে হচ্ছে সুসংগঠিত ও ছন্দে থাকা একটি দল।
সোমবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯০ রান করেছেন ইব্রাহিম জাদরান। গত বছর এখানেই বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে ৯৫ রান করে আউট হয়েছিলেন তিনি। আগের ম্যাচে তার ব্যাটিংয়ের ধরন ও বর্তমান ছন্দ বিবেচনায় শারজায় আরেকটি বড় ইনিংস খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার নব্বইয়ের ঘর পেরিয়ে শতক পূরণের লক্ষ্য থাকবে তার।
জাদরানকে থামানোর পথ খুঁজে বের করতে হবে বাংলাদেশকে। তা না হলে আফগানিস্তান বড় সংগ্রহ গড়তে পারে। জাদরান ভালো ব্যাটিং করে ভিত গড়ে দিলে প্রায়ই বড় স্কোর পায় দলটি।
জাদরানকে থামানোর অন্যতম সম্ভাব্য নাম শরিফুল ইসলাম। আফগান এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো রেকর্ড শরিফুলের। সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ৫৫ বলের মধ্যে ছয়বার জাদরানকে আউট করেছেন তিনি। এর মধ্যে একদিনের ক্রিকেটে দুবার।
শরিফুলও বর্তমানে ভালো ছন্দে রয়েছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ৪৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। এর আগে ম্যাকেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টেও সাত উইকেট শিকার করেছিলেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল ভেতরের দিকে ফেরানোর দক্ষতাও বেড়েছে তার। এতে ব্যাটসম্যানদের জন্য বল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
আফগানিস্তান যদি পেস বোলারদের বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা না করে, তাহলে তাদের একাদশে পরিবর্তনের তেমন কোনো কারণ নেই।
আফগানিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ
রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, সেদিকুল্লাহ আতাল, রহমত শাহ (অধিনায়ক), হাশমতউল্লাহ শহিদি, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, এএম গজনফর, জিয়াউর রহমান ও ফজলহক ফারুকি।
মিরাজের অসুস্থতায় বিপাকে বাংলাদেশ
ভাইরাসজনিত জ্বর থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ সেরে উঠতে না পারলে বাংলাদেশের একাদশ সাজানো কঠিন হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ
তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।
উইকেট ও আবহাওয়া: আগে ব্যাটিং করে বড় সংগ্রহের লক্ষ্য
শারজায় টসজয়ী দল প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। দিবারাত্রির ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে উইকেটে বল কিছুটা থমকে আসতে পারে। তাই আগে ব্যাটিং করে বড় সংগ্রহ গড়ে তোলাই হতে পারে সেরা কৌশল।
পরিসংখ্যান ও তথ্য
- শনিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবারের মতো নিজের ক্যারিয়ারে প্রথম পাওয়ারপ্লেতেই তিন উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।
- শারজায় ইব্রাহিম জাদরানের রান ৬০ ও ২২। নিজের ১১টি অর্ধশতকের মধ্যে চারবারই নব্বইয়ের ঘরে আউট হয়েছেন তিনি।
- গত বছর আবুধাবিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন রশিদ খান। এর মধ্যে ছিল পাঁচ উইকেটের একটি কৃতিত্ব। বাংলাদেশের বিপক্ষে তার মোট উইকেট ৩৫, গড় ১৯.২২।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি বুঝতে পারিনি। তিনটি উইকেট পাওয়ার পর দ্রুত আরেকটি উইকেট নেওয়ার জন্য চাপ ধরে রাখা উচিত ছিল। যদিও তারা খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। পরে আমরা যখন ব্যাটিং করেছি, তখনও পরিস্থিতি বুঝতে পারিনি। এমন শুরুর পর আমাদের শুধু ৫০ ওভার ব্যাটিং নিশ্চিত করতে হতো। তা করতে পারলে আমরা ম্যাচটি জিততে পারতাম।’
