বর্ধমান নবাবহাটের নার্সিংহোমে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের জালে অ্যানেস্থেসিস্ট। নিখোঁজ থাকার পর বোলপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন বলে দাবি। ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, শারীরিক পরীক্ষা না করেই অ্যানেস্থেসিয়া দিয়েছিলেন তিনি। অপারেশনের পর আর জ্ঞান ফেরেনি ওই শিশুর। শরীর নীল হয়ে যায়। জ্ঞান ফেরার অপেক্ষা না করেই ওই অ্যানাসথেসিস্ট ওই নার্সিংহোম ছেড়ে চলে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। অ্যানেস্থেসিস্ট গ্রেপ্তারের আগে এই নার্সিংহোম থেকে ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হয়েছেন নার্সিংহোমের দুই মালিকও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম বনজকুমার দে। তিনি বর্ধমানের খোশবাগানের বাসিন্দা। থাকছিলেন বোলপুরে। ২ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের নবাবহাটের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুর ফাইমোসিস অপারেশন হয়। অপারেশনের পর তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, তাঁদের অনেক বিষয়ে অন্ধকারে রেখে অপারেশন করা হয়। প্রথমে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার কথা না থাকলেও তাঁকে অজ্ঞান করা হয়। ওই শিশুর বাবা-মায়ের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও চূড়ান্ত গাফিলতির জন্যই তাঁদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। সন্তানের মৃত্যুর বিচার চেয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিসের সামনে ধর্নায় বসেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা।
শিশুটির বাবা-মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। সেই কমিটির তদন্তে উঠে আসে নার্সিংহোমের বেহাল দশা সামনে আসে। নার্সিংহোম বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুই মালিক গ্রেপ্তার হন। অন্যদিকে শিশুটির অস্ত্রপোচার করা চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও তদন্ত হয়। ঘটনায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অপারেশনে যুক্ত ডাক্তার সাইদুল হক ভুয়ো চিকিৎসক বলে তদন্তে উঠে আসে। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর ওই চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। তাকে কয়েকদিন আগে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর থেকেই অ্যানাসথেসিস্টকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার ছিলেন তদন্তকারীরা। অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
